এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ সেপ্টেম্বর : “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি”, “ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ” প্রভৃতি শ্লোগাগুলো মূলত বামপন্থীদের আমদানি । বামপন্থীদের গড় বলে পরিচিত দিল্লির জেএনইউ থেকে শুরু করে ক্রমশ কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্রমিত হয়েছে । এতদিন পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এনিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না ৷ কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসতেই ওই সমস্ত দেশবিরোধী শ্লোগান বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন । আজ বুধবার কলকাতায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রায়’ অংশ নিয়ে বামপন্থী ও উগ্রবামপন্থীদের ফের একবার এই বিষয়ে সতর্ক করে দিলেন তিনি । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কীসের আজাদি? দেশ তো অনেক আগেই স্বাধীন হয়েছে।’ এমনকি তিন দিন ব্যাপী বেদ পাঠের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ বিকেলে ঢাকুরিয়া গোলপার্কের দক্ষিণাপনের সামনে থেকে যাদবপুর ৮-বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রায়’ অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী । গায়ে গেরুয়া পোশাক ও গেরুয়া ধ্বজ নিয়ে তিনি এই যাত্রাপথে পা মেলান । যাদবপুর ৮-বি বাসস্ট্যান্ড যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের চত্বর থেকে তিনি বামপন্থীদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যাদবপুরের দেওয়ালে লেখা হচ্ছে‘রেড স্যালুট কিষেণজি’। নতুন প্রজন্মকে কী শেখানো হচ্ছে ? এই কিষেণজি কে?’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রকার সংস্কৃতির উপর লাগাম টানতে সনাতনী সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে সামনে আনা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন,
‘যাদবপুরের রাস্তাতেই তিন দিন ব্যাপী বেদ পাঠের ব্যবস্থা করব । আমি কিছুদিনের মধ্যে এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতনী ডাকে আবার আসব। একবার গীতাপাঠ করতে আসব। আশা করব সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।’ এরপরই শুভেন্দু বলেন,’পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।’
তবে এদিন তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টার ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক-কর্মী ট্রান্সফার নীতি চালু করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিষয়টি দেখছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর ।’ আর বর্তমান রাজ্য সরকার যদি ‘ট্রান্সফার নীতি’ নিয়ে আসে তাহলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থীদের দেশবিরোধী প্রচারের উপর অনেকাংশে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল । কারন অভিযোগ যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীদের একাংশ অলক্ষে থেকে বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থী মতাদর্শে ইন্ধন যোগান।
প্রসঙ্গত,সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং আরএসএস এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । মার ও পালটা মারে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর । পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকা এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রথম পাতায় একটি বড়সড় প্রতিবেদন প্রকাশ করে । যেখানে ব্যানার শিরোনামে “গেরুয়া গুন্ডামি” শব্দ প্রয়োগ করে সংঘর্ষের জন্য এবিভিপি-র উপর দায় চাপিয়ে দেয় বলে অভিযোগ । গেরুয়ার অপমান করায় ওই পত্রিকাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘন্টা সময়সীমা বেঁধে দেন । যদিও গোষ্ঠীটি ক্ষমা চায়নি । আজ মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে ওই পত্রিকা গোষ্ঠীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,’যারা “গেরুয়া গুন্ডামি” লিখেছে তাদের শিকড় সমেত উপড়ে ফেলব।”
তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী- উগ্রবামপন্থী বনাম এবিভিপি-র উত্তেজনা এখনো কমেনি । এক পক্ষ দেওয়াল লিখছে, তো অন্য পক্ষ তা মুছে ফের নিজেদের স্লোগান লিখে দিচ্ছে । এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই বুধবার তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ‘গেরুয়া সম্মান’ যাত্রার নেতৃত্ব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।।

