প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৯ সেপ্টেম্বর : সাইবার অপরাধী ও অনলাইন জালিয়াতদের নিশানায় এখন বঙ্গের বিজেপি বিধায়করা। রাস্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে বিধায়দের ফোন করে চার জনকে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা।তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক বিধায়ককে এইভাবে ফোন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রতারিতও করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । তবে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অরুন হালদারকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে ঠোক্কর খেতে হয়েছে প্রতারকরা। অরুণ হালদার প্রতারকের করা ফোন নাম্বার সহ জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার তদন্তে নেমে পুলিশ কর্তারা জেনেছেন, ‘ওই ফোন কলটি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে বিধায়কের কাছে গিয়েছিল।’এসবের মধ্যেই বিজেপি সূত্র খবর মিলেছে ,’বিজেপির অনেক বিধায়ক প্রতারকের ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ নম্বরে তিন চার জনের বায়োডাটা পাঠিয়ে দিয়ে এখন পস্তাচ্ছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,প্রতারকের ফোন কল নিয়ে জামালপুরের বিধায়ক অরুন হালদারের ঘনিষ্ঠ সৌমেন ঘোষ সম্প্রতি জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন,’গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো ৫২ মিনিটে এবং বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ বিধায়কের ফোন নাম্বারে দু’টি ফোন কল আসে। একটি রাস্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ বলে প্রথমে পরিচয় দিয়ে ফোন আসে।পরের ফোন কলটি থেকে জামালপুর থেকেই ফোন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। নিজেকে ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ দাবি করা ব্যক্তি ফোনে বিধায়ক অরুণ হালদা কে জানান, ‘অরুণ হালদারের নির্বাচনী এলাকার বেকারদের জন্যে তিনটি চাকরির সুযোগ রয়েছে। সে জন্যে উপযুক্ত প্রার্থীদের বায়োডাটা এবং ব্যক্তিগত কিছু তথ্য পাঠানোর জন্যে বিধয়ককে অনুরোধ করা হয়। এমনকী, নির্বাচিত প্রার্থীদের মাসে ৪৫ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে বলেও ওই ফোনে জানানো হয়।’
এমন ফোন কল প্রসঙ্গে সৌমেন ঘোষ জানিয়েছেন, ‘নিজেকে ব্যাংক ম্যানেজার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেই বিধায়ক বুঝে যান, ‘প্রতারণার উদ্দেশেই তাঁকে ফোনটি করেছিল কোনও প্রতারক । বিধায়ক পদকে সামনে রেখে স্থানীয় মানুষজনকে প্রতারণা করাই ছিল ওই প্রতারকের মূল উদ্দেশ্য’। এই ঘটনাকে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ধরে নিয়ে জামালপুর থানার দ্বারস্থ হন সৌমেন।জামালপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগ পত্রে তিনি এও উল্লেখ করেছেন ,লখনউয়ের চক থানায় বিধায়ক অরুন হালদারের ছেলে অনুরাগ হালদার একটি মামলা করেছিলেন (২৬১/২০২৫)। ওই প্রতারণার ফোনের সঙ্গে বিধায়ককে করা ফোনের কোনও যোগ আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখার জন্যেও তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।
বিধায়ক অরুণ হালদার জানান ,’ এমন ফোন কল পেয়ে তাঁর প্রথম থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।এমনকি তিনি বিধানসভার ভিতরে থাকার সময়েও দেখেছেন ‘সিনিয়র ব্যাংক ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে অন্য বিধায়কদেরকে কেউ ফোন করছে। সেই ফোন পেয়ে অনেকে আবার বায়োডাটাও জমা দিয়ে দিয়েছে। আমি তৎক্ষণাৎ তাঁদের সাবধান করে দিয়েছি ।’ অরুণ হালদার বলেন, আমাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার এই চেষ্টাকে হালকাভাবে না নিয়ে আমি প্রতারকদের ফোন নাম্বার উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি’।
তবে শুধু বিধায়ক অরুন হালদারই নয়,মেমারির বিধায়ক মানব গুহ, ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফাও দাবি করেছেন,’তাঁরা সহ আরো অনেক বিধায়কের কাছেই এমন ফোন এসেছিল। মানব গুহ এবং সৌমেন কার্ফা বলেন,’ আমরা ওই ফোন কলের বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছি’। প্রতারকদের এইভাবে বিধায়কদের নিশানা করার কারণ প্রসঙ্গে পুলিশ মনে করছে,বিধায়কদের সামনে রেখে প্রতারকরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। কারণ, বিধায়করা নিজেদের প্যাডে বেকার যুবক-যুবতীদের নাম পাঠালে সেটা নিয়ে কারুর কোন সন্দেহ থাকবে না।সবার কাছেই সেটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। আর তার মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা প্রতারণা করার পথ খুলে যাবে প্রতারকদের কাছে। পুলিশ ওই ফোন কলের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে প্রতারকদের জালে পুরতে এখন মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ।।
