এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ সেপ্টেম্বর : “ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ” বাস্তুতন্ত্রের উপর “সার্জিক্যাল স্ট্রাইক” চালালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । আজ রাজ্য বিধানসভায় পেশ হল ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ । এই আইন পাস হলে ‘পরিকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নতমানের’ শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বা শিক্ষাকর্মীকে অন্যত্র বদলি করতে পারবে রাজ্য সরকার । মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ও উগ্রবামপন্থীদের দেশবিরোধী কার্যকলাপে লাগাম টানতেই রাজ্য সরকার এই বিল আনতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে ।
এর আগে বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ দেবজিৎ দত্তকে ৷ গত ১৯ অগাস্ট গভীর রাতে ঐতিহ্যের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চলে। সংঘর্ষ, ভাঙচুর, পতাকায় আগুন, বাদ যায়নি কিছুই। পরের দিনও তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এই ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। অবশেষে মেয়াদ শেষের দেড় মাস আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হল । এছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৬ মাসের জন্য নতুন ফাইন্যান্স অফিসার হলেন কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ আনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এরপর বুধবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শেষে এক জনসভার মঞ্চ থেকেও এই বিশেষ অধিবেশন ও বিলের বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিধানসভায় চর্চা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷
প্রস্তাবিত ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০১৭ সালের আইনে নতুন ‘১৪এ’ ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। এই ধারা অনুযায়ী, প্রশাসনিক স্বার্থে বা প্রয়োজনবোধে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে চ্যান্সেলরকে।
বদলি হওয়া কর্মীর সুযোগ-সুবিধার নিরাপত্তার বিষয়েও সংশোধনীতে বিশেষ রাখঢাক রাখা হয়েছে। বদলির পর সংশ্লিষ্ট কর্মীর সামনে দুটি বিকল্প খোলা থাকবে। তিনি চাইলে পূর্বের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের লিয়েন (Lien) বজায় রাখতে পারেন, কিংবা নতুন কর্মস্থলেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন। যদি তিনি জনস্বার্থে বদলি হয়ে পুরনো প্রতিষ্ঠানে লিয়েন টিকিয়ে না রাখেন, তবে মূল চাকরিতে যোগদানের তারিখের ভিত্তিতেই তাঁর ভবিষ্যৎ সিনিয়ারিটি বা বরিষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি, বদলিকালীন গ্র্যান্ট এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরিবহনের খরচের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অধিকারও বজায় থাকবে কর্মীর। এই পুরো প্রক্রিয়াটির ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরকেই চূড়ান্ত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে কলেজ স্তরে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের পারস্পরিক বদলির বিধান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এই আইনি ঘাটতি ছিল, যা এবার পূরণ হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ওরা বিরাট বিরাট পন্ডিত ব্যক্তি । ওদের অভিজ্ঞতা নতুন কলেজগুলোয় লাগাতে চাই ।’ তারপরেও দেশবিরোধী কার্যকলাপ চালালে শাস্তিমূলক বদলি করে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।।

