এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ সেপ্টেম্বর : দুর্গাপূজায় মাংস খাওয়া নিয়ে মন্তব্যকে ইস্যু করে কলকাতার ভবানীপুর থানার সামনে রাজপথে প্রকাশ্যে বাগেশ্বর ধামের মহারাজ ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবিতে জুতো মারে ও পুড়িয়ে দেয় প্রদেশ কংগ্রেসের কিছু সদস্য সদস্যা । আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনের সময় ওই সমস্ত কংগ্রেস কর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,’এ রাজ্যে এসব চলবে না। অনেক করেছেন এসব। তোষামোদি রাজনীতি অনেক হয়েছে । এবারে এসব বন্ধ করতে হবে ।’
ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে দুর্গাপূজার সময় প্যান্ডেলের আশেপাশে এবং উৎসবে আমিষ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য হিন্দুদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্যান্ডেলের পেছনে “ঘৃণ্য খাবার তৈরি করা হয়” বলে মন্তব্য করেন। দুর্গাপূজার সময় যারা আমিষ খান, তাদের ধার্মিক না বলে ‘পাষণ্ড’ বা ‘পাখণ্ডী’ বলে কটাক্ষ করেন। এটাকে ইস্যু করে আসরে নেমে পড়েছে সিপিএম । তাদের দেখাদেখি কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসও কথিত বাঙালি অস্মিতার নামে বাজার গরম করে যাচ্ছে । কংগ্রেস অতি উৎসাহী হয়ে ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে জুতো মারে ও পোড়ায় । তবে মজার বিষয় হল বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য আর কৌস্তুভ বাগচিরাও বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমাদের লিলুয়াতে একজন সন্ত এসেছিলেন। সন্তের মতোই তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ঐতিহ্য সংস্কৃতির কথা বলেছেন তাঁর মতো করে। যাঁরা গ্রহণ করার করবেন, যাঁরা করার নয় করবেন না। তিনি কারও উপর চাপিয়ে দিতে চাননি। আমি কতগুলো লোককে দেখলাম ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পুড়িয়েছে। এখান থেকে সিপি-কে বলছি, ওই লোকগুলোকে অ্যারেস্ট করতে হবে৷’
পাশাপাশি দুর্গাপূজোকে শারদ্যোৎসব আখ্যা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি বলেছেন, ‘দুর্গাপূজোর মত আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানকে উৎসব বানিয়ে দিয়েছে সিপিএম । এরপর সিপিএম যদি দুর্গাপূজার সময় বই স্টলে শারদ্যোৎসব লেখে, তাহলে পূজো মন্ডপের আশেপাশে তাদের স্টল বসতে দেওয়া হবে না ।’।
