অষ্টাবক্র গীতার দ্বাদশ অধ্যায় (দ্বাদশং প্রকরণম্) হলো অদ্বৈত বেদান্তের এক অত্যন্ত গভীর ও সারগর্ভ অধ্যায়, যেখানে ঋষি অষ্টবক্র রাজা জনককে নিজের আত্মার স্বরূপ এবং বাহ্যিক জগতের অনিত্যতা সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছেন
জনক উবাচ ॥
কাযকৃত্যাসহঃ পূর্বং ততো বাগ্বিস্তরাসহঃ ।
অথ চিন্তাসহস্তস্মাদ্ এবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-১॥
প্রীত্যভাবেন শব্দাদেরদৃশ্যত্বেন চাত্মনঃ ।
বিক্ষেপৈকাগ্রহৃদয় এবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-২॥
সমাধ্যাসাদিবিক্ষিপ্তৌ ব্যবহারঃ সমাধয়ে ।
এবং বিলোক্য নিযমমেবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-৩॥
হেয়োপাদেয়বিরহাদ্ এবং হর্ষবিষাদয়োঃ ।
অভাবাদদ্য হে ব্রহ্মন্ন্ এবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-৪॥
আশ্রমানাশ্রমং ধ্যানং চিত্তস্বীকৃতবর্জনম্ ।
বিকল্পং মম বীক্ষ্য়ৈতৈরেবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-৫॥
কর্মানুষ্ঠানমজ্ঞানাদ্ যথৈবোপরমস্তথা ।
বুধ্বা সম্যগিদং তত্ত্বমেবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-৬॥
অচিংত্যং চিংত্যমানোঽপি চিংতারূপং ভজত্যসৌ ।
ত্যক্ত্বা তদ্ভাবনং তস্মাদ্ এবমেবাহমাস্থিতঃ ॥১২-৭॥
এবমেব কৃতং যেন স কৃতার্থো ভবেদসৌ ।
এবমেব স্বভাবো যঃ স কৃতার্থো ভবেদসৌ ॥১২-৮॥
এই অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু এবং দর্শন :
দেহ ও সংসারের অনিত্যতা: এই অধ্যায়ে জোর দেওয়া হয়েছে যে, দেহ, মন এবং জাগতিক সমস্ত কিছু নিত্য পরিবর্তনশীল ।
অদ্বৈতবাদ ও আত্মোপলব্ধি: আত্মা অপরিবর্তনশীল এবং চিরন্তন। যখন একজন সাধক বুঝতে পারেন যে তিনি দেহ নন, বরং আত্মা, তখন তিনি সব ধরনের বন্ধন থেকে মুক্তি পান ।
নির্বিকার অবস্থা: রাজা জনক এই অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যে, পরমাত্মা বা ব্রহ্মের অনুভূতি হলে চিত্ত (মন) সমস্ত কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে নির্বিকার অবস্থায় পৌঁছে যায় ।
সংসার থেকে নিরাসক্তি: এই জ্ঞান যখন দৃঢ় হয় যে “আমিই সব” বা “সবই ব্রহ্মময়”, তখন আমির-তুমি বা বিচার-অবিচার থাকে না, কেবল আনন্দ থাকে ।
সহজ কথায়, এই অধ্যায়টি জ্ঞানযোগের মাধ্যমে জীব ও ব্রহ্মের অভেদত্ব এবং আত্মতৃপ্তির শিক্ষা প্রদান করে।
