এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৫ জুন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক বাণিজ্য আলোচনায় অবশিষ্ট মতপার্থক্য নিরসনে সহায়ক হবে।তিনি বলেন,”আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাব। আমি আপনার প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি। তিনি আমার ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে ।”
এদিকে, ট্রাম্প ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অতীতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে তাঁর পুরনো সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে অভিযোগ করেছেন যে, ভারত বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আসছে।তিনি বলেন,”বহু বছর ধরে ভারত আমেরিকার সুযোগ নিয়েছে। তারা আমাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন আমরা ভারত থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় করছি ।”
১ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনার পরপরই ট্রাম্পের এই বিবৃতিটি তাৎপর্যপূর্ণ।মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) এবং ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন।ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে যে, এই আলোচনা সহযোগিতা ও বাস্তবতার মনোভাব নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে পণ্য ও পরিষেবার জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার, অশুল্ক বাধা অপসারণ, শুল্ক পদ্ধতির সরলীকরণ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা হয়েছে।উভয় দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তির প্রথম খসড়াটি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং অবশিষ্ট কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছেন, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কর্মকর্তারা অবশিষ্ট মতপার্থক্য নিরসনে কাজ করছেন।এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ ৬০টি দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। এছাড়াও, রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের শুরুতে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। ভারত ওইসব আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর শুল্কগুলো তুলে নেওয়া হয়।এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের বিবৃতি এই বার্তা দিয়েছে যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।।
