এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ জুন : ২৬-শের ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতা ব্যানার্জির হাতে তৈরি ‘মা-মাটি-মানুষের’ দল তৃণমূলের ভাগ্যাকাশে ছেয়ে আছে ঘন মেঘ । ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূলে’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে । মমতার তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাতে । তবে কিছু মিডিয়ার দাবি, ঘরে ফেরাতে একাধিক ‘বিদ্রোহী’কে ইতিমধ্যে ফোন করেছেন মমতা এবং কারো কারোর কাছ থেকে ইতিবাচক সড়াও নাকি মিলেছে । এদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের মত মমতার নীতির কট্টর সমালোচকরা বিদ্রোহে অনড় ।
লোকসভার দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম ওঠার গুঞ্জনের মাঝেই এক তাৎপর্যপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালেন তৃণমূল সাংসদ।মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী কাকলি দেবী সরাসরি দলের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও নীতির সমালোচনা করে দলীয় নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন। আজ শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন,’আপনার কি মনে হয়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা।’ তাঁর এই মন্তব্য যে দলের অন্দরে বর্তমান পরিস্থিতির ইঙ্গিতবাহী, তা জলের মত স্পষ্ট ।
সূত্রের খবর, আগামী ৭ জুন প্রায় কুড়ি জন তৃণমূল সাংসদের একটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। জল্পনা তুঙ্গে যে, সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা পড়তে পারে, যেখানে লোকসভায় নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে।কাকলি নিজে যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তবে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট দলের ভাঙনের জল্পনাকে আরও জোরালো করল।
অন্যদিকে ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মমতা ব্যানার্জি । আজ শুক্রবার কালীঘাটে বৈঠক ডেকেছেন মমতা । বৈঠকে বিদ্রোহী বিধায়কদের কোনো রকমে তিনি আনতে চাইছেন। সেই উদ্দেশ্যেই।হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের একাধিক জয়ী বিধায়ককে তিনি ফোন করেছিলেন । তাদের মধ্যে অনেকেই বুধবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য বিধানসভায় গিয়েছিলেন । গুটি কয়েক মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে যে বিদ্রোহীদের কেউ কেউ নাকি ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছেন। এদিকে, বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে এদিন রাজ্য বিধানসভায় বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ফলে দোলাচলে থাকা তৃণমূলের বিধায়করা কোন দিকে যাবেন সেটাই ঠিক করতে পারছেন না । কার্যত বলা যায় যে ‘মা-মাটি-মানুষের’ দল তৃণমূলের ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে।।
