এইদিন ওয়েবডেস্ক,প্রয়াগরাজ,১৭ এপ্রিল : একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায়, এলাহাবাদ হাইকোর্ট দ্বাদশ শ্রেণীর দুই মুসলিম ছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি এফআইআর খারিজ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই মুসলিম ছাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা তাদের হিন্দু বান্ধবীকে বোরখা পরতে বাধ্য করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দিয়েছে। এই মামলাটি উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার, যেখানে হিন্দু ভুক্তভোগীর ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তদন্তকালে সংগৃহীত প্রমাণ আপাতদৃষ্টিতে গুরুতর এবং একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন, সুতরাং এই পর্যায়ে এফআইআরটি খারিজ করা যাবে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী একটি টিউশন সেন্টারে যেত, যেখানে অভিযুক্তসহ তার পাঁচজন সহপাঠীনী তাকে চাপ দিতে শুরু করে। অভিযোগ করা হয় যে, এই ছাত্রীরা তাকে বোরকা পরতে বাধ্য করে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে প্ররোচিত করে।নিজের জবানবন্দিতে, ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের একটি ঘটনার কথা বর্ণনা করে, যখন সে টিউশনের পর এই বান্ধবীদের সাথে বাইরে গিয়েছিল । এই সময় তাকে সারাদিন বোরকা পরতে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও, অভিযোগ করা হয় যে অভিযুক্ত ছাত্রীরা তাকে আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করেছিল। সে মাংস খেতে অস্বীকার করলে, তাকে শুধু ঝোল খেতে বলা হয়।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করে যে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তার মগজধোলাই করে দেয়, যার ফলে সে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হয়ে পড়ে । উপরন্তু, অভিযুক্তরা তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে যে তাদের ধর্ম শ্রেষ্ঠ, ৪০ দিনে কোরান পড়া যায় এবং বোরখা পরলে আরও বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত ছাত্রীরা আদালতে যুক্তি দেখায় যে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। এও বলা হয় যে, প্রতিশোধের বশে এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছে, কারণ অভিযোগকারী এর আগে অভিযুক্ত ছাত্রীদের একজনকে হয়রানি করেছিল এবং তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
আইনজীবী আরও যুক্তি দেন যে, অভিযুক্ত ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর এবং সে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু এই মামলাটি তাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বাধা দিচ্ছে। এও বলা হয় যে, মূল অভিযোগগুলো আর একজন সহ-অভিযুক্তের বিরুদ্ধে, যিনি কোনো আবেদন করেননি। তবে, আদালত এই যুক্তিগুলো গ্রহণ করেনি। আদালত জানায় যে, বিদ্বেষবশত এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছে, তা প্রমাণ করার মতো কোনো অকাট্য প্রামাণ্য নথিতে নেই।
আদালত উল্লেখ করেছে যে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ভুক্তভোগীকে রাস্তায় বোরখা পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। আদালত আরও বলেছে যে, তদন্তকালে ‘উল্লেখযোগ্য তথ্যপ্রমাণ’ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা একটি আপাতদৃষ্টিতে মামলা প্রতিষ্ঠা করে এবং একটি বিস্তারিত তদন্তের দাবি রাখে।হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করেছে যে, অভিযুক্তের কার্যকলাপ ‘প্রলোভন’ বা ‘অন্যায় প্রভাব’ কিনা, তা এই পর্যায়ে নির্ধারণ করা তাড়াতাড়ি হবে; এটি তদন্ত ও বিচারের বিষয়। আদালত তরুণদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনাকে একটি ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ হিসেবেও বর্ণনা করেছে।
আদালত বলেছে যে, এটাই সেই বয়স যখন তরুণদের উচিত অন্যদের উপর নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের দক্ষতা ও শিক্ষার উপর মনোযোগ দেওয়া। পরিশেষে, আদালত দুই শিক্ষার্থীর আবেদন খারিজ করে দেয় এবং পূর্বে প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। এই মামলায় এখন আরও তদন্ত চলবে।।
