এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৭ জুন : রাজ্যে পালাবদলের পর ভবন মালিক আর ভাড়া দিতে ইচ্ছুক নয় তাই কলকাতায় দলের মুখ্য কার্যালয় “তৃণমূল ভবন” থেকে তল্পিতল্পা গোটাতে শুরু করল প্রাক্তন শাসকদল । কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের একতলা এবং দোতলা থেকে মাল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার রাত থেকে । দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ভবনের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই মালিকপক্ষের দখলে চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে । এখন কালীঘাটের কার্যালয় ছাড়া কলকাতায় তৃণমূলের আর কোনও প্রধান সংগঠনিক কার্যালয় রইল না৷
জানা গেছে,কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় তৃণমূলের এই কার্যালয় ভবনটির মালিক মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহা । ২০২২ সালে মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন এই ভবনটি দলীয় সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের মে মাসে মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির উপস্থিতিতে পুজো ও যজ্ঞের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখান থেকে দলীয় কাজ শুরু হয়। আধুনিক পরিকাঠামো, লিফট, বৈঠক কক্ষ, সিসিটিভি নজরদারি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভবনটি তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।ভবনটির এক তলায় মূলত জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য বসার জায়গা ছিল। এক তলায় একটি মিডিয়া সেন্টার ছিল।মন্টু সাহার মালিকানাধীন ‘মডার্ন ডেকরেটিং’ ভোটের আগে পর্যন্ত তৃণমূলের সমস্ত কর্মসূচিতে মঞ্চ বাঁধার বরাত পেত। এমনকি ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের প্রশস্ত মঞ্চটিও তৈরি করত মডার্ন ডেকরেটিং। ওই ভবন ব্যবহার করার বিষয়ে মন্টুর সঙ্গে তৃণমূলের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই বাড়িভাড়ার বিষয়ে বেঁকে বসেন মন্টু।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভবনটি ভাড়ার চুক্তির আওতায় ছিল। এরপর মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে আরও কয়েক মাস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ভবনটি সম্পূর্ণভাবে খালি করার জন্য বলা হয়। কিন্তু বার বার বলার পরেও তৃণমূল ভবন খালি করছে না বলে অভিযোগ । এই অভিযোগ নিয়েই প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হন মন্টু। তৃণমূলের তরফেও থানায় গিয়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভবনের ভাড়া চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে এবং চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। এই সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় থানাকেও জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। পাশাপাশি মালিকপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অবশেষে মঙ্গলবার রাত থেকে ওই দু’টি তলা থেকে চেয়ার-টেবিল, ফ্লেক্স, ব্যাকড্রপ সরানোর কাজ শুরু হয়। তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ভবনের উপরতলা থেকে আসবাব সরানোর কাজ শুরু করেছে তারাই। এই বিষয়ে মালিকপক্ষ কিংবা তৃণমূল— কারও তরফেই আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।চুক্তি ও দখল সংক্রান্ত এই মতবিরোধের মধ্যেই ভবনের একটি অংশ খালি করার কাজ শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই ভবন সম্পূর্ণ খালি করা হবে কি না এবং বিষয়টি আইনি জটিলতার দিকে গড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।।
