এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,০২ আগস্ট : বহু চর্চিত হিন্দি সিনেমা “দ্য কেরালা স্টোরি”র (The Kerala Story) কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কেরালার কয়েকজন সাধারণ ঘরের হিন্দু তরুণীদের ‘লাভ জিহাদে’ ফাঁসিয়ে ধর্ম পরিবর্তন, তাদের মগজধলাই এবং পরবর্তীতে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসআইএস (ISIS)-এর সাথে যুক্ত হওয়ার একটি নাটকীয় ও বিতর্কিত ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে। যাকে তথাকথিত বামপন্থীরা অপপ্রচার মূলক ছবি বলে অবিহিত করে৷ কিন্তু পাকিস্তান ভিত্তিক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ধৃত সন্ত্রাসী হামিম মন্ডল ও তার ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারের প্রেম কাহিনীতে “দ্য কেরালা স্টোরি”র ঝলক দেখা যাচ্ছে ।
পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি সন্ত্রাসী সংগঠনের ধৃত সদস্য হামিম মণ্ডল ও তার ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বান্ধবী অর্পিতা সরকারের সম্পর্ক নিয়ে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধছে । তবে দু’জনের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ ছিল ও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, সেই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা জানতে পারে ইতিমধ্যেই তাদের ‘বাগদান’ হয়ে গেছে । ‘বাগদান’ সেরেই দীঘায় হনিমুন করতে যায় তারা । হনিমুন থেকে ‘চাঙ্গা’ হয়ে ফিরে ‘অপারেশনে’ মনযোগ দেয় হামিম-অর্পিতা! টার্গেট হিন্দু মন্দির ।
পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যা, যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে নাশকতা ছাড়াও দেশের একাধিক মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ছিল ধৃত সন্ত্রাসী হামিম মণ্ডল ও তার প্রেমিকা অর্পিতার —এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা তথ্য সংগ্রহে হামিমকে সহযোগিতা করত। একসঙ্গে কাজ করার উদ্দেশ্যে দু’জনে বাগদানও সেরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। গত বছর হামিম ও অর্পিতা দীঘায় ঘুরতে গিয়েছিল। ওই সফরের সময় তাঁদের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনার পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও তদন্তাধীন। পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অস্ত্র সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছিল বলে দাবি এসটিএফ সূত্রের।
তদন্তকারীদের দাবি, জয়েশ-ই-মহম্মদ সংগঠনে হামিম ‘ফুয়েগো’ নামে পরিচিত ছিল। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি, যুবকদের নিয়োগ এবং যুবতীদের প্রলোভনের ফাঁদে কাজে লাগানোর দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি অর্পিতা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে ভিডিও তুলে সেখানকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করত বলেও অভিযোগ । ভুয়ো নামেও তাঁর একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
কে এই অর্পিতা সরকার ?
মুর্শিদবাদের ফারাক্কা ব্লকের অদূরে ফিডার ক্যানেলের পশ্চিমপাড়ে ঝাড়খণ্ডেই আসল বাড়ি অর্পিতা সরকারে । অর্পিতারা দুই বোন। সে ছোট । দিদির বিয়ে হয়েছে। মা ছিলেন আইসিডিএস কর্মী। বাবা কৃষক। সেখানেই পড়াশোনা ও কলেজ থেকে স্নাতক হয় বলেও তার দাবি। তবে সে এক বন্ধুর সাথে সাহেবগঞ্জের বারহারোয়ায় থাকত । এলাকায় অত্যন্ত ‘স্মার্ট’ বলে পরিচিত অর্পিতার শখ ছিল মডেল হওয়া । বাইক চালানোর শখ তার । সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে হামিমের সঙ্গে অর্পিতার প্রথম পরিচয় হয়।ফোনের আদানপ্রদান সহ হোয়াটসঅ্যাপ সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যাটিং চলতে থাকে । মুর্শিদাবাদে এসে হামিমের সঙ্গে দেখা করত অর্পিতা । ক্রমশ বাড়ে ঘনিষ্ঠতা । অর্পিতার কথা হামিম পাকিস্তানে তার হ্যান্ডলার রানা, হমার, আবিদদের হ্যান্ডেলেও জানায়। পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের মাধ্যমে অর্পিতারও মগজধোলাই করা হয়, যাতে সে হানিট্র্যাপের কাজ করে । এখন প্রশ্ন যে,নিছক টাকার লোভ? নাকি এর পিছনে কাজ করছে ‘লাভ জেহাদ’? বিষয়টি রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের তদন্তাধীন। জইশ সন্ত্রাসী হামিদ ও অর্পিতা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছে৷ তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন(ইউএপিএ)-এর ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে ।।
