এইদিন ওয়েবডেস্ক,নাসিক,১৯ এপ্রিল : মহারাষ্ট্রের নাসিকের টিসিএস বিপিও যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত দানিশ শেখের মা তাবাসসুম শেখ তাঁর ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমে যা তুলে ধরা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তাঁর ছেলেকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। তাবাসসুম শেখ ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ এবং তার ন্যায়বিচার প্রাপ্য। গণমাধ্যমে যা তুলে ধরা হচ্ছে তা সত্য নয়।” তিনি দাবি করেন যে, দানিশ এবং অভিযোগকারী মহিলার মধ্যে কেবল স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল এবং কোনো অনুচিত আচরণ ঘটেনি।”
তাবাসসুম শেখ জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগও নাকচ করে দেন। তিনি বলেন যে, ইসলামে ধর্মান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে একজন ধর্মগুরু এবং সাক্ষীরা উপস্থিত থাকেন। তিনি আরও বলেন, “এটি সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে হয় না। মেয়েটি নিজেই আমাদের ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল এবং আমার ছেলে কেবল সেগুলোর উত্তর দিয়েছিল।”
তিনি অভিযোগে উল্লিখিত তথ্যগুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাবাসসুমের মতে, দানিশ এবং ওই মহিলার মধ্যে প্রায় ১০ বছরের বয়সের পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ২০১৬ সালে পড়াশোনা শেষ করেছে, তাহলে সে কীভাবে তার সাথে কলেজে পড়তে পারে?” ২০২৩ সালে কাজের সূত্রে দুজনের পরিচয় হয় এবং মহিলাটিই প্রথম কথা শুরু করেন। তাবাসসুম তার ছেলেকে একজন শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তিনি বলেন, দানিশ ২০১৮ সালে বিয়ে করে এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, “সে একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ।” তিনি কর্মক্ষেত্র-সম্পর্কিত অন্যান্য অভিযোগও খারিজ করে দিয়ে বলেন, দানিশ নিরামিষভোজী এবং তার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তাবাসসুম আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমার ছেলেই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। আমার পুত্রবধূ হতাশায় ভুগছে এবং হাসপাতালে ভর্তি।” তিনি অন্য অভিযুক্তদেরও নির্দোষ ঘোষণা করে বলেন, তারা সবাই ভালো ছেলে ছিল। শেষে তিনি বললেন, “আমার সন্তান এটা করতে পারে না। আমাদের ধর্ম কাউকে দোষারোপ করতে শেখায় না। প্রত্যেকের নিজের পথ অনুসরণ করা উচিত।”
