প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৪ অক্টোবর : মেয়ের সঙ্গে নিত্যদিন ঝামেলা করে ঘরজামাই । রোজ রোজ জামাইয়ের এই উৎপাত সহ্য করতে পারেননি বৃদ্ধা শাশুড়ি । তাই প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি । আর তার এই অপরাধে শাশুড়িকে কুপিয়ে চম্পট দিল জামাই । পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার বাঁদরা এলাকার ঘটনা । রক্তাক্ত অবস্থায় মণিকা ঘোষাল (৬০) নামে ওই বৃদ্ধাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । পুলিশ আহত বৃদ্ধার জামাই প্রদ্যুত ঘোষকে খুঁজছে ।
জানা গেছে,কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রামের উধ্যানপুরে বাড়ি প্রদ্যুত ঘোষের। কাটোয়ার বাঁদরা এলাকায় বাড়ি বৃদ্ধা মণিকা ঘোষালের সঙ্গে তার দেখাশোনা করে বিয়ে হয়েছিল । অবশ্য বিয়ের পর থেকে প্রদ্যুত তাঁর শ্বশুর বাড়িতে ঘর জামাই হয়ে থাকতো । কিন্তু নানা করণে এই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া অশান্তি লেগেই থাকতো।
পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন,আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ স্ত্রী ঝুমার সঙ্গে আশান্তি বাধে প্রদ্যুতের। তানিয়ে প্রতিবাদ করেন ঝুমার মা মণিকা ঘোষাল। অভিযোগ,শাশুড়ির প্রতিবাদ মেনে নিতে পারেনি প্রদ্যুত। তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাশুড়ির উপর চড়াও হয়ে তাকে কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের এলোপাথাড়ি কোপে মারাত্মক জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধা মণিকাদেবী।তা দেখে মেয়ে ঝুমা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করতেই ঘর জামাই প্রদ্যুত শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ।প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সহায়তা নিয়ে মেয়ে ঝুমা তাঁর মাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আনেন ।সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাঁর অস্ত্রোপচার চলে ।আশঙ্কাজনক অবস্থায় বৃদ্ধা মণিকাদেবী এখন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে ।
এদিকে এক বৃদ্ধার উপর এমন নৃশংস হামলার খবর পেয়েই নড়ে চড়ে বসেছে কাটোয়া থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দেওয়া অভিযুক্ত জামাই প্রদ্যুত ঘোষকে পাকড়াও করতে পুলিশ জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে।হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের খোঁজ চালানোর পাশাপাশি ঠিক কি কারণে বৃদ্ধার উপর এমন নৃশংস হামলার চালালো, দম্পতির পারিবারিক অশান্তির পিছনেই বা কি কারণ রয়েছে, এইসব বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।।

