হাজার হাজার জাট নিজেদের অ-হিন্দু ঘোষণা করেছে, শিখ, বৌদ্ধ, আদিবাসী, দলিত, লিঙ্গায়েত এবং তামিলনাড়ুর মানুষও হিন্দু নয়; আমরা এই দেশেও হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দিয়েছি ।একটি ইসলামিক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় এক মৌলানা এই দাবি করেছেন৷ তিনি বলেছেন যে, ভারতের হিন্দু জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি সম্প্রদায়কে আদৌ হিন্দু হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। এই মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং পরিচয়, জনসংখ্যা ও ধর্ম নিয়ে বিতর্ক পুনরায় উস্কে দিয়েছে।
মাওলানা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী, যাঁর অনুষ্ঠান থেকে দেওয়া মন্তব্য অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আলাদাভাবে গণনা করলে ভারতে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। তাঁর বক্তৃতায় তিনি যুক্তি দেন যে শিখ, বৌদ্ধ, তফসিলি জাতি, আদিবাসী, লিঙ্গায়েত এবং এমনকি তামিলনাড়ুর জনগণকে হিন্দু হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা উচিত নয়।
মন্তব্যগুলো দ্রুত অনলাইনে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অনেক ব্যবহারকারী ওই ধর্মগুরুকে ধর্মীয় ও সামাজিক ভিত্তিতে সম্প্রদায়গুলোকে বিভক্ত করার চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেন। সমালোচকরা এই মন্তব্যগুলোকে বিপজ্জনক ও উস্কানিমূলক বলে বর্ণনা করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, এই ধরনের বক্তব্য বিদ্যমান সামাজিক বিভাজনকে আরও গভীর করার ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রায় তিন দশক ধরে ভারতজুড়ে ভ্রমণ এবং দেশটির জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ও সামাজিক বাস্তবতা অধ্যয়নের দাবি করে মৌলানা বলেন, তার সিদ্ধান্তগুলো ব্যাপক মাঠপর্যায়ের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শপথ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিভিন্ন জাতি, উপজাতি এবং ধর্মভিত্তিক পরিচয়কে আলাদাভাবে গণনা করা হলে হিন্দুদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
বিশেষ করে, তিনি যুক্তি দেন যে আদিবাসী সম্প্রদায় দেশের আদি বাসিন্দা এবং তাদের হিন্দু ছাতার নিচে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন যে তফসিলি জাতি,জাঠ,শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, লিঙ্গায়েত এবং তামিল সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে যা তাদের হিন্দুধর্ম থেকে পৃথক করে।
এই ইসলামিক ধর্মগুরু ‘ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু’ এবং ‘সাম্প্রদায়িক হিন্দু’-র মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভাজনেরও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে এই রাজনৈতিক ধারণা মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশকে বিভ্রান্ত করেছে। তার মতে, এই কৌশলটি শেষ পর্যন্ত সেইসব শক্তিকে লাভবান করেছে যাদের তিনি কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ প্রকাশ্যে হিন্দুধর্ম থেকে পৃথক পরিচয় তুলে ধরছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি অভিযোগ করেন যে পশ্চিম উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার কিছু অংশে সম্প্রদায়ের সভায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারি নথিতে নিজেদের শিখ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যদিও তিনি এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
এদিকে মৌলানার এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র শেজহাজ পুনাওয়ালা৷ তিনি বলেছেন,’হিন্দুদের বিভক্ত করা ও দেশকে দুর্বল করার জিহাদি মানসিকতা শেষ পর্যন্ত সামনে এসেই গেল । এই সেই মৌলানা সাজ্জাদ নোমানি, যিনি মহারাষ্ট্রের মহা বিকাশ আখাড়ি বা এমবিএ এর পক্ষে ভোট জিহাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন । ও বলছে যে দেশে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নয় । হিন্দুকে আমরা বিভক্ত করে দিয়েছি । তপশিলি জাতি উপজাতি হিন্দু নয় । হিরো বলছে জাট হিন্দু নয় । আর এদের সবাইকে আমরা বিভক্ত করে দিয়েছি । কিন্তু এখন সেকুলার এবং কমিউন্যালের মধ্যে বিভক্ত করলে হবে না,এখন আমাদের সম্পূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে হবে৷ এ কে? কি হলো সেই বিষাক্ত ব্যক্তি যে এমবিএ এর প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল ।’
তিনি বলেন,আমরা দেখেছিলাম যে এনসিপির শরদ পাওয়ার ওর সমর্থন চেয়েছিল । আমরা দেখেছিলাম যে ও ব্যক্তি ভোট জিহাদের আবেদন করেছিল। যদি ওকে জাতীয় অথবা অন্য কোন ভাবে বিভক্ত করো এবং ফের মুসলিম ভোট ব্যাংকে একজোট করো । এটা সাধারণত মৌলানা সাজ্জাদ নোমানির রাজনৈতিক গুরু কংগ্রেস করে থাকে ।’।
