এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৩ আগস্ট : পরিবারের প্রাণের বিনিময়ে জিজিয়া কর ! হ্যাঁ… কার্যত এমনই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের নাটোরের লালপুরে বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় ৷ রাতের অন্ধকারে সাতটি হিন্দু পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়েছে । তবে চিঠিতে ‘জিজিয়া কর’ শব্দের উল্লেখ না করে ‘চাঁদা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে । বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘কালবেলা’য় বলা হয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে ‘মোহেলা বেগম’ নামের কথিত একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট দেখা গেছে। নম্বরটি ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। এই নম্বর আবার যার নামে রেজিস্ট্রার্ড, তার বাড়ি খুলনায়। বয়সে যুবক ।
বাংলাদেশের নাটোরের লালপুরে বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় সাতটি হিন্দু পরিবারকে রাতের আঁধারে চিঠি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবির যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার নেপথ্যে ‘মোহেলা বেগম’ নামের কথিত একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট দেখা গেছে। নম্বরটি ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। এ নম্বর আবার যার নামে রেজিস্ট্রার্ড, তার বাড়ি খুলনায়। বয়সে যুবক।
রবিবার (০২ আগস্ট) রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পরিবারের দুজন সদস্যের সঙ্গে সসংবাদমাধ্যমটি কথা বলে । একজন বলেন, ‘প্রথমে আমার ছেলে ব্যালকনিতে চিঠি পায়। পরে আরও কয়েকটি পরিবার একই চিঠি পাওয়ার কথা জানায়। এখন পর্যন্ত সাতটি বাড়িতে এমন চিঠি পাওয়া গেছে।’চিঠিতে যে নম্বর দেওয়া আছে, সেটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সার্চ করে ‘Mohela Begum’ নাম দেখা গেছে। স্থানীয় পুলিশও এই নামের সন্ধান পেয়েছে।
চিঠি পাওয়া পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ‘এভাবে নম্বর দিয়ে চাঁদা চাওয়ার কথা না। কোনো পক্ষ দেশে হয়তো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে। নম্বরটি নিশ্চয়ই ফেক (ভুয়া) হবে।’পুলিশের প্রাথমিক ধারণাও এমন ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, নম্বরটি ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। সর্বশেষ চালু করা হয় হিন্দু পরিবারগুলোর এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে, লালপুরে।
তবে কালবেলার অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ভিন্ন এক চিত্র। নম্বরটি যে যুবকের নামে রেজিস্ট্রার্ড, তার বাড়ি খুলনায়। অধিকতর অনুসন্ধানের স্বার্থে এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ওই সংবাদমাধ্যমটি ।
“সেভেন স্টার” নামে একটি সংগঠনের তরফে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘সেভেন স্টারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনাদের বাড়িতে একটি চিঠি দিলাম। আশা করি, কোনো বিকল্প চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, জীবন গেলে আপনাদের পরিবারের ভালো। মনে ২০,০০০ দিয়ে দেবেন। কোনো মানুষকে জানাবেন না। যদি কেউ জানতে পারে, তাহলে আপনাদের পরিবারের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। সব হিন্দু ধর্ম ও পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দিতে হবে। অনেক পরিবার আছে চিঠি পায়নি। তারা মনে করে টাকা দিয়ে দেবেন । আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে হবে। যদি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে সময় খুব খারাপ যাবে। সব হিন্দু ধর্ম পরিবারের জন্য চিঠিটা দেওয়া হলো। এই চিঠি যে পাবেন, সবাইকে বলে দেবেন আপনাদের হিন্দু ধর্ম মধ্যে। আপনাদের পরিবার ভালো রাখার জন্য সেভেন স্টার আপনাদের সব সময় পাশে থাকবে ধন্যবাদ। সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ।’
চিঠির বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হুমকি পত্রের উৎস শনাক্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ‘সেভেন স্টার’ নামে একটি দুর্বৃত্ত দল কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়িতে চিঠি ফেলে যায়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় চিরকুটে।
মুন্সিগঞ্জে হিন্দু পরিবারকে দেশ ছাড়ার হুমকি
তবে প্রাণের বিনিময়ে চাঁদাবাজি শুধু নয়, দেশ ছাড়ার জন্য হুমকিও পাচ্ছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা ।মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা সনজিত ঘোষের বাড়ির সামনে সাদা থান কাপড় ও অন্তেষ্টিক্রিয়ার সামগ্রী রেখে দরজায় ‘বাঁচতে চাইলে দেশ ছাড়, নইলে মরার জন্য প্রস্তুত হও’ লেখা পোস্টার সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, সঞ্জয় ঘোষ দীর্ঘ দুই দশক ধরে সিঙ্গাপুরে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। ১০ বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। বর্তমানে দুই সন্তানের জনক। তার একটি গরুর খামার রয়েছে, গরুর দুধ বিক্রি করে বর্তমানে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ঘটনার পর থেকে ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে গোটা পরিবার ।।
