বিগ বসের প্রাক্তন তারকা ও সমাজকর্মী দিয়া সানার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নেটিজেনদের নাড়িয়ে দিয়েছে। দিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে তার বন্ধুর মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। দিয়া জানান, শিশুটিকে তার ৮০ বছর বয়সী যাজক(Pastor) যৌন নির্যাতন করে এবং বিষয়টি জানতে পেরে মা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। দিয়া আরও জানান, মা ও শিশু বর্তমানে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,আমি খুব আবেগপ্রবণ অবস্থায় কথা বলছি। এটা খুবই গুরুতর একটা ব্যাপার। গতকাল রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে আমার এক বান্ধবী আমাকে ফোন করে এক্ষুনি বাড়ি আসতে বলে। আমি ব্যাপারটা জানতে চাইলে সে জানায় যে, কেউ তার সন্তানকে যৌন হয়রানি করেছে। এটা শুনে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা কেটে দিই।
এটা শুনে আমি হতবাক হলেও, আমি আর এক বান্ধবীকে ফোন করে বলি যে আমাদের তার বাড়িতে যাওয়া উচিত। আমি ব্যাপারটা জানতে চাইলে সে আমাকে জানায়। সেও খুব ভয় পেয়েছে । আমরা দ্রুত তার বাড়িতে পৌঁছে যাই। আমরা যখন পুলিশকে জানানো এবং পরীক্ষার জন্য বাচ্চাটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলছিলাম, তখন সে হঠাৎ সেখান থেকে পালিয়ে যায়। লোকটি পাশের বাড়িতেই থাকত । তার ভাই এবং আমার বান্ধবী তার পিছু ধাওয়া করে। আমি তাড়াতাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারিনি।
এই সবকিছু কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে গেল। সে গিয়ে বেল বাজালে, লোকটি দরজা খুলল। কিন্তু তাকে দেখে সে দরজাটা বন্ধ করার চেষ্টা করল। মেয়েটি দরজাটা ধাক্কা দিয়ে খুলে তার হাতে থাকা ছুরিটা দিয়ে তাকে দুই-তিনবার আঘাত করল। সে যখন ফিরছিল, আমি তখন সেখানে পৌঁছালাম। কী হয়েছে আমি বুঝতে পারছিলাম না। আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে?” সে বলল, “আমি করেছি।” আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম। আমার মনে হয়, সে বাড়িতে থাকা ছুরিটা নিয়েই এই কাজটা করেছে। সে এমন একজন মহিলা ছিল যে এর আগে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ছয়-সাত মাস একা থাকত। কেবল সেই অবস্থাতেই সে বাচ্চাটার কথা জানতে পারে এবং প্রতিক্রিয়া দেখায়।
তিনি বলেন যে, লোকটি প্রায় এক বছর ধরে শিশুটির ওপর এমন নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে আসছিল। শিশুটির মূত্রনালীর সংক্রমণ হলে এবং তাকে পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নিজের সন্তানের এমন অভিজ্ঞতার কথা জানতে পেরে যেকোনো মা যে মানসিক অবসাদ ও ক্রোধে ভুগবেন, তিনিও ঠিক তাই অনুভব করেছেন।
জানা গেছে, শিশুটি মারা যায়নি এবং সুস্থ হয়ে উঠছে । পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি পকসো (POCSO) মামলা এবং তার বিরুদ্ধে মারধরের একটি মামলা দায়ের করেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে আছেন। তার স্বাস্থ্য খুব দুর্বল হওয়ায় আমরা তার জামিনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু জামিন পাইনি। তিনি জেলে যাওয়ায় আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।
প্রত্যেকেরই নিজের সন্তানদের খুব যত্ন নেওয়া উচিত। তিনি তাঁর মেয়েকে সেইভাবেই বড় করেছেন। কিন্তু কখন এবং কীভাবে এমন জঘন্য লোকেরা তাদের ওপর অত্যাচার করবে, তা বলা অসম্ভব। এটা খুবই মর্মান্তিক যে তার বয়স ৮০ বছর। তিনি একজন যাজক। তার আশেপাশের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। তিনি শ্রীকার্যমে থাকেন। পুলিশ তার বাড়ির পেছন থেকে রামবুটান ও চকলেট উদ্ধার করেছে। তিনি শিশুদের এসব জিনিস দেওয়ার কথা বলে নিজের বাড়িতে ডাকেন। এটা মর্মান্তিক যে এই যুগেও শিশুদের এমন জিনিস দেখিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।শিশুটি এবং তার মায়ের মানসিক অবস্থা অবর্ণনীয়।
যদিও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অগ্রহণযোগ্য, সেই মুহূর্তে মায়ের মানসিক অবস্থা বোঝা যায়। আমি প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতেই এটি শেয়ার করেছি। ঈশ্বর করুন, সেই শিশু ও মা এই সংকট কাটিয়ে ওঠার সাহস পান ।।

