এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,৩০ জুন : গতকালই বিধানসভায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের “সাটাভাঙা মার” মন্তব্য নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি হুমায়ুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যারা ওই সভায় আপনাকে ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব, তারপর আপনার কাছে যাব।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ঠিক কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সোমবার রাতে পুলিশ প্রথমে আমিনুল শেখ ও গোলাম মোস্তাফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আনিসুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার ধৃতদের বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে ।
গত ২৬ শে জুন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা-২ ব্লকের কাশীপুর হাটতলায় দলীয় জনসভায় একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর । তিনি বলেছিলেন, ‘এই যে অনামিকা ঘোষ সে ভোটে হেরেও মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে, তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে খুব ভাল কথা। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন সাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আর কেস ? এরকম অনেক কেস-এ আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫ হাজার লোককে আপনি….বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ঢোকে না। লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর সাটা ভাঙ মার দেব, আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন, কত খাওয়াতে পারবেন দেখব। লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায় না, মাথাটা যেদিন গরম হয়ে যায় সেদিন আমি এসপি বুঝব না। চিফ মিনিস্টারেও বুঝব না। আর কে কোথায় থাকল, আর কে কোথায় থাকল না, ওসব বুঝব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়াব।’
সোমবার বিধানসভায় এই ইস্যুটি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুমায়ুন কবীরকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। যারা ওই সভায় আপনাকে ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব। তারপর আপনার কাছে যাব। এভাবে আর বেপরোয়া মন্তব্য করতে দেব না।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেই যে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলবেন । আমি আপনাকে বলে গেলাম, আমরা দু’টো এফআইআর শুরু করেছি। রেজিনগর থানা ও শক্তিপুর থানায়। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কের উদ্দেশ্যে দৃঢ়ভাবে বলেন,’এটাই আপনার শেষ বক্তব্য। এভাবে আপনাকে আর কোনো বেপরোয়া মন্তব্য করতে দেব না, দেব না, দেব না।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগর থানার পুলিশ সক্রিয় হয়। রাতারাতি গ্রেপ্তার করা হয় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) ওই সভার তিন আয়োজককে । এখন প্রশ্ন হল : এবার কি পালা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ?

