এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৬ জুলাই : প্রায় প্রতিদিন ক্রিষ্টান নরসংহার চালাচ্ছে ইসলামি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি । হাজার হাজার নারী-পুরুষ- শিশুর বেঘোরে প্রাণ চলে যাচ্ছে । লক্ষ লক্ষ পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে উদ্বাস্তুর জীবন কাটাতে হচ্ছে। ফলে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় দেশের ‘উগ্রপন্থী ইসলামের’ বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে। পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে দেশটি । এর ফলে বুরকিনা ফাসোর প্রভাবশালী মুসলিম আলেমদের সঙ্গে সামরিক জান্তার তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ইমামকে গ্রেপ্তার এবং একটি ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাসের পর সরকার ও আলেম সমাজের মধ্যে এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ।
আলেমদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ত্রাওরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইসলামের চরমপন্থী ব্যাখ্যা প্রচার করবে, রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজনে এ ধরনের প্রচারণায় যুক্ত ইমামদের বরখাস্ত করা হবে। গত ২০ জুন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন’ পাস করে। এই আইনে শিশুদের জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছতার মতো কাজের জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার এটিকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার পদক্ষেপ বললেও সমালোচকদের মতে, এটি মূলত ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর উগ্রপন্থী বিচারধারার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি কৌশল।
সরকারের সঙ্গে আলেমদের এই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে মূলত মে মাসের শেষের দিকে, যখন নতুন ধর্মীয় আইনের খসড়ার সমালোচনা করায় দেশের অন্যতম বিশিষ্ট সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এপ্রিলে ইমাম মাহমুদ বারোকেও প্রায় একই পরিস্থিতিতে আটক করা হয়েছিল। কিন্দোর মুক্তির দাবিতে মুসল্লিরা বিক্ষোভ করলে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী ওয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদটি বন্ধ করে দেয়। এমনকি কিন্দোর প্রায় ১০০ জন সমর্থককে ধরে ‘নাগরিক প্রশিক্ষণের’ জন্য সামরিক ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ।
দেশের ভেতরে আলেমদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ওপরও নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন ত্রাওরে। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশে ইসলামি বিষয়ে অধ্যয়নরত বুরকিনা ফাসোর শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হতে পারে। এখন থেকে বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এদিকে, অভ্যন্তরীণ এসব উত্তেজনার মাঝেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে বুর্কিনা ফাসো। সম্প্রতি দেশটিতে নিযুক্ত নতুন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন সামরিক শাসক ত্রাওরে।।
