প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৬ জুন : বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করলেও বাংলার পুলিশ এখনো তৃণমূলের হয়েই কাজ করে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ এনে সোমবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালো বিজেপির একদল নেতা ও কর্মী। তা নিয়ে গত শনিবারের মতো এদিনও তপ্ত হয়ে ওঠে থানা চত্ত্বর ।একদিন অন্তর থানা ঘেরাও করে বিজেপি নেতারা যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশকে অপদস্ত করে চলেছে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,দুই বিজেপি কর্মীকে মারধোর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে গত শনিবার জামালপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় । ওইদিন বিজেপির জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালকে তৃণমূলের দালাল আখ্যা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন একই মণ্ডলের সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল ও অপর বিজেপি নেতা বসন্ত পাঁজা এবং তাঁদের অনুগতরা।তাঁরা দল বল নিয়ে মিছিল করে এসে ওই দিন জামালপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।এর পরের দিন অর্থাৎ গত রবিবার প্রধান চন্দ্রপাল আবার সুশান্ত মণ্ডল ও বসন্ত পাঁজাকে তৃণমূলের দালাল আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।
সেই মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেধড়ক মারধোরে মারাত্মক জখম হন জামালপুরের চকদিঘী অঞ্চলের দক্ষিণ শুড়া গ্রামের বিজেপি কর্মী কিশোর হাঁসদা।তিনি জানিয়েছেন,তিনি বিজেপি করেন। বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পালের মিছিলে যোগ দিতে রবিবার বিকালে তিনি জামালপুরে যাচ্ছিলেন ।পথে ডোড়বাঁধ এলাকায় চারু মালিকের নেতৃত্বে অশোক রুইদাস ও অলক রুইদাস সহ ১০-১৫ জন মিলে তাঁর পথ আটকায় । তার পর তারা বাঁশ ,রড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে মারধোর করে। তাঁর মাথা ফেটে যায়। ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়ে ওই দিনই কিশোর হাঁসদা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে পুলিশ দুই অভিযুক্ত অলক রুইদাস ও অশোক রুইদাস কে গ্রেপ্তার করে সোমবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে। বিচারক তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই গ্রেপ্তারি মেনে নিতে পারেন না জামালপুর ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি অসীম শীল ওরফে সন্তু সহ সুশান্ত মণ্ডল ও বসন্ত পাঁজারা। তাঁর দল বল নিয়ে সোমবার সকালে জড়ো হন জামালপুর থানার সামনে। পুলিশকে তৃণমূলের দালাল আখ্যা দিয়ে তাঁরা শ্লোগান দেওয়া শুরু করেন। দুই ধৃত আশোক রুইদাস ও অসীম রুইদাসকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতেও তাঁরা সরব হন।একসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই বিক্ষোভের জেরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কার্যত তপ্ত হয়ে থাকে জামালপুর থানা চত্ত্বর ।
বিজেপি সরকারের পুলিশকে নিশানা করে থানার সামনে এইভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল ও অসীম শীল বলেন,’বিজেপি এখন রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী।।তবুও পুলিশের লোকজন এখনো তৃণমূলকে ভুলতে পারে নি। তারা এখনো তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছে। তাই পুলিশ বিজেপি নেতাদের কথা শুনছে না। বিজেপি কর্মীদেরকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।“কেন বিজেপি কর্মী কিশোর হাঁসদাকে ভয়ংকর ভাবে পিটিয়ে জখম করলো বিজেপি কর্মী অশোক রুইদাস ও অলক রুইদাস?এর প্রশ্নের উত্তরে সুশান্ত ও অসীম বলেন,কেউ কিশোর কে মারে নি। তবে কিশোর যেহেতু ৩ নম্বর মণ্ডল এলাকার বাসিন্দা তাই তাকে ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পালের ডাকা মিছিলে যোগ দিতে ওরা বারণ করেছিল । সেটা কিশোর না মানলে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়।ওই সময় পড়ে গিয়ে কিশোর জখম হয়েছে বলে সুশান্ত ও অসীম দাবি করেছেন।
বিজেপি নেতাদের এইসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “যা হচ্ছে তা মোটেই ভাল কাজ হচ্ছে না। তবে এটাও ঠিক কোথাও কোথাও পুলিশ এখনো তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছে।বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। তবে খুব শিঘ্র এই অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে জেলা সবাপতি দাবি করেছেন“।
যদি জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার পরিস্কার জানিয়ে দেন,’’যাঁরা থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে তৃণমূলের দলদাস আখ্যা দিয়ে শ্লোগান দিয়েছে তারা কি জানে না বিজেপি এখন রাজ্যের সরকার চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে বলেছেন ,পুলিশ কে নিয়ে কোন কথা বলবেন না। কারণ এখন পুলিশ আমাদের।এর পরেও যে মণ্ডল সভাপতি পুলিশকে তৃণমূলের দলদাস বলেছে সে কখনোই বিজেপির লোক হতে পারে না। আমার মনে হয় যাঁরা থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে দলদাস বলেছে তাঁরা আসলে বিজেপির জার্সি পারা তৃণমূলের লোক“।বিধায়ক এও বলেন, ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি কে দল থেকে বহিস্কারের আর্জি তিনি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়েছেন।।
