এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),১৬ এপ্রিল : মাত্র ৭ দিন পরেই রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভার ভোট । তার আগে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে জোর ধাক্কা খেলো সিপিএম । একসময়ের প্রভাবশালী নেতা শ্রীজিৎ কোঁয়ার শিবির বদল করে ধরলেন তৃণমূলের ঝান্ডা ৷ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাতার বাজারে তৃণমূলের ব্লক কার্যালয়ে বিদায়ী বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী,তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার এবং ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশের হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে নেন । ভোটের ঠিক মুখেই শ্রীজিৎ কোঁয়ারের তৃণমূলে যোগদানে সিপিএমের জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে ৷ নিজের দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রীজিৎ কোঁয়ার বলেন,’ভাতার-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ-এ যে উন্নয়নের কাজ চলছে, তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলাম ।’
প্রসঙ্গত,ভাতারের নাসিগ্রামের বাসিন্দা শ্রীজিৎ কোঁয়ার ভাতারের সিপিএমের একজন পরিচিত মুখ । রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকেই তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত । বড়বেলুন ২ গ্রামপঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও উপপ্রধান হিসেবেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সিপিএমের ভাতার এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাতার কেন্দ্রে টিকিটও দেয় সিপিএম । কিন্তু প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রবল হাওয়ায় সেই সময়ে তৃণমূলের প্রার্থী বনমালী হাজরার কাছে তিনি ২৯৮ ভোটে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য,বড়বেলুন ২ গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে নাসিগ্রাম । আর নাসিগ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় একসময়ের প্রভাবশালী নেতা শ্রীজিৎ কোঁয়ারের ভালোই প্রভাব রয়েছে বড়বেলুন-২ ও বড়বেলুন-১ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় । এই দুই পঞ্চায়েত এলাকা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হয় । এমনকি বিগত নির্বাচনে বড়বেলুন ২ অঞ্চলে তৃণমূল অল্প ব্যবধানে পিছিয়েও ছিল । ফলে শ্রীজিৎ কোঁয়ারের মত এমন একজন প্রভাবশালী সিপিএম নেতা যোগদান করায় ভোটের মুখেই তৃণমূল অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এল বলে মনে করা হচ্ছে । যদিও সিপিএমের ভাতার এরিয়া কমিটির সম্পাদক নজরুল হক দাবি করেছেন, শ্রীজিৎ দীর্ঘদিন ধরেই দলে নিষ্ক্রিয় ছিলেন । তবে এই বিষয়ে দল শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে ।।
