এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,৩০ জুন : টিকটকে মুসলিম যুবক ইশারুল মোল্লার সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাংলাদেশের বগুড়ার শম্পারানী ঘোষ নামে এক হিন্দু তরুনীর । প্রেমের টানে ধর্ম, পরিবার এবং সমাজকে বিসর্জন দিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে বেরিয়ে আসেন । আসার আগে মায়ের শেষ সম্বল সোনার গহনা ও জমানো টাকাও চুরি করেন ওই তরুনী৷ পরে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘খাদিজা চৌধুরী’ নাম রাখেন । ইশারুল মোল্লা এক মুসলিম আলেমের ছেলে হওয়ায় শম্পারানী ভেবেছিলেন, ধার্মিক পরিবারের ছেলে হওয়ায় অন্তত জীবনের নিরাপত্তা ও সম্মান পাবেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে তার সেই ভুল ভাঙে । প্রেমিক ও স্বামী ইশারুল মোল্লা তার কাছ থেকে সোনার গহনা ও টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে । এখন শম্পারানী থেকে খাদিজা চৌধুরী হওয়া ওই তরুনী পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কার্যত পথের ভিখারি হয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ।
বগুড়ার রনজিত চন্দ্র ঘোষ ও শিপ্রা দেবীর মেয়ে শম্পারানী ঘোষ । তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, টিকটকের মাধ্যমে ইশারুল মোল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয় । তিনি ওই যুবকের প্রোফাইলে দেখেন সে একজন মুসলিম আলেমের ছেলে । এছাড়া,ইশারুল নিজেকে একটি সম্মানিত আলেম পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেয় । তরুনীর কথায়,ইশারুল মোল্লার ধর্মীয় ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে তার উপর আমার বিশ্বাস জন্মে যায় । এরপর তার কথামত আমি ঢাকায় চলে আসি । সঙ্গে করে নিয়ে আসি মায়ের ৩ ভরি সোনার গহনা ও জমানো হাজার পঞ্চাশ টাকা । তারপর ঢাকায় এসে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে ইশারুলকে নিকাহ করি । ঢাকাতেই ভাড়া বাড়িতে সংসার শুরু করি । আমার স্বামী বলেছিল যে একটা কাজ জুটিয়ে আমায় বাড়ি নিয়ে যাবে । কিন্তু কি হল জানিনা,এখন আমার ফোন রিসিভ করে না ।’
তবে বিয়ের পর শম্পারানীর সেই সুখের সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাস ছয়েক যেতে না যেতেই আলেম স্বামীর আসল রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। কথায় কথায় তার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় । একদিন হঠাৎ সোনার গহনা ও যাবতীয় টাকাপয়সা নিয়ে উধাও হয়ে যায় তার স্বামী ইশারুল মোল্লা । এখন ফোন করলে ফোন পর্যন্ত ধরে না ধর্মান্তরিত খাদিজা চৌধুরীর স্বামী ।
বর্তমানে ওই প্রতারক স্বামীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিজের ধর্ম ও পরিবার ত্যাগ করে আসার কারণে চম্পারানী এখন না পারছেন নিজের বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে, আর না পারছেন এই চরম বিপদের মধ্যে একা টিকে থাকতে। রনজিত চন্দ্র ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,’এমন কুলাঙ্গার মেয়ের আমার বাড়িতে জায়গা হবে না ।’
এদিকে সনাতনী অধিকার রক্ষা ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই প্রতারক যুবকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী তরুণীর আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন ।।
