FIFA World Cup 2026 : ব্রাজিল-জাপানের ১-১ সমতায় ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৬ মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারায়েসের পাসে দারুণ এক গোল করে বসেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। যে গোল শুধু ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানের জয়ই এনে দেয়নি, একই সঙ্গে এনে দিয়েছে শেষ ১৬-এর টিকিটও।
হিউস্টনে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লির ওই গোলটা যেন ব্রাজিল সমর্থকদের বুক থেকে পাথর সরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে জাপানিজ সমর্থকদের দিয়েছে একরাশ হতাশা। অবশ্য ম্যাচ জুড়েই দুর্দান্ত খেলেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তুলনামূলক বিশ্লেষণে গেলে, প্রথমার্ধে ব্রাজিলের খেলা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ থাকতে পারে সেলেসাও সমর্থকদের মনে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সব পুষিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তির শিষ্যরা।
৬৮ হাজার ৭৭৭ জন দর্শকের সামনে ব্রাজিল-জাপান প্রথমার্ধে অনেকটাই সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই হয়েছে। ব্রাজিল আক্রমণ করেছে ঠিকই, কিন্তু জাপানের রক্ষণ কোনোভাবেই ভেদ করতে পারছিল না। এর মধ্যে একবার ২০ গজ দূর থেকে শট নিয়েছিলেন মাতেউস কুনিয়া। কিন্তু দারুণ প্রচেষ্টায় সে যাত্রায় জাপানের ত্রাতা হয়ে হাজির হন গোলকিপার সুজুকি।
এরপর কিছু সময়ের জন্য খেই হারিয়েছিল আনচেলত্তির দল। তেমনই এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় জাপান। ২৯ মিনিটে মধ্যমাঠে বল হারান দানিলো। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় প্রায় ২০ গজ ছুটে গেলেন। এরপর ডানবামে না তাকিয়ে মাটি কামড়ানো শট নিলেন দূরের পোস্টে। আলিসন বেকার লাফিয়েছিলেন বটে, তবে সেটি ঠেকানোর সাধ্য ছিল না ব্রাজিল গোলকিপারের।
প্রথমার্ধে বহু চেষ্টা করেও ওই গোল আর ফেরত দিতে পারল না ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাকেতাকে তুলে এনদ্রিককে মাঠে নামান আনচেলত্তি। একটা শুধু একজন খেলোয়াড়ের পরিবর্তন নয়, যেন পুরো ব্রাজিলকেও বদলে দিল সেটা। আক্রমণের ধারও বাড়ল ব্রাজিলের।
৫৬ মিনিটে তেমনই এক আক্রমণে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। অনেকটা দূর থেকে দূরের পোস্টে ক্রস করেছিলেন গাব্রিয়েল। ঝাঁপিয়ে হেড করলেন কাসেমিরো। বল আশ্রয় নিল জাপানের জালে। স্কোরলাইন ১-১। ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে গোলের দেখা পেলেন কাসেমিরো, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে গোল করা বেবেতোর পর ব্রাজিলের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা বনে যান কাসেমিরো।
কিছুসময় পর আবারও গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। মধ্যমাঠের কিছুটা সামনে বল পেয়ে দারুণ এক নাগমেটে তোমিয়াসুকে ছিটকে ফেললেন। এরপর বাঁ উইং ধরে দারুণ ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিলেন। সেই শট জাপানের গোলকিপারের হাতে লেগে দিক বদলে পোস্টে লেগে ফেরত এল। বলটি জালে জড়ালে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলও হতে পারত!
এরপর নির্ধারিত সময়ে চেষ্টা চালালেও কোনো গোলের দেখা পেল না ব্রাজিল। এরপর এল অতিরিক্ত সময়ের সেই মুহূর্ত। শেষ বাঁশি বাজার কিছু আগে বল জিতে ভেতরের দিকে গিমারায়েসকে দিলেন রায়ান। চাইলে গিমারায়েস নিজেই শট নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি বল দিলেন মার্তিনেল্লিকে। সেই বল বাঁ পায়ে রিসিভ করে ডান পায়ের দারুণ শটে জালে পাঠালেন মার্তিনেল্লি।।
