প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৯ অক্টোবর : জাতীয় যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে ’স্বর্ণপদক’ জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল খুদে বঙ্গতনয়া, পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির বিষ্ণুপুর গ্রামের জ্যোতি বল । রাজস্থানের জয়পুরে অনুষ্ঠিত হয় ৫১তম সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার উপস্থিতিতে এই অনন্য সম্মান অর্জন করেছে ওই ছোট্ট মেয়েটি । এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সুবাদে জ্যোতি ১১তম এশিয়ান যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ডাকা পাওয়ার সাথে সাথে বেঙ্গল অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সুযোগও পেয়ে গেছে ।
মেমারি থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা অসিত বল ও গৌরীদেবীর মেয়ে জ্যোতি । অসিতবাবু ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত । গৌরীদেবী গৃহবধূ । জানা গিয়েছে,চলতি বছরের ৩ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্থানের জয়পুরে অনুষ্ঠিত হয় ৫১তম সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগীতায় ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী বালিকা বিভাগে অংশ নিয়ে জ্যোতি তাক লাগিয়ে দেয়।প্রতিযোগীতায় সারা দেশের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে সে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিয়েছে । এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সুবাদে জ্যোতি দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত হতে চলা ১১তম এশিয়ান যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি বেঙ্গল অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সুযোগও পেয়ে গিয়েছে জ্যোতির প্রশিক্ষক নয়ন মজুমদার জানিয়েছেন।
এদিকে মেয়ের এই সাফল্যের কথা বলতে জ্যোতর গিয়ে মা গৌরী বল আবেগঘন হয়ে পড়েন । তিনি বলেন,’আমার মেয়ে জ্যোতির যখন তিন বছর বয়স তখন সে খুব দুর্বল ও অসুস্থ প্রকৃতির ছিল। শারীরিক উন্নতির লক্ষ্যেই আমি আমার মেয়েকে তখন বিষ্ণুপুর ফুটবল খেলার মাঠে মেমারি যোগ থেরাপি সেন্টারের প্রশিক্ষক নয়ন মজুমদারের কাছে যোগাসনে ভর্তি করি।কিন্তু আমি তখন ভাবতে পারিনি আমার মেয়ে জাতীয় যোগাসন চাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক জিতবে !’
গৌরী বল আরো জানান চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই তাঁর মেয়ে জ্যোতি মেদিনীপুর, খড়্গপুর, কাটোয়া, বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে। শুরুতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় চতুর্থ বা পঞ্চম স্থান পেলেও কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও জেদের জোরে তাঁর মেয়ে জ্যোতি ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করে নেয়।আর জ্যোতির বাবা প্রতিটি পদক্ষেপে মেয়ের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন বলেও জানান তিনি ।
জ্যোতির প্রশিক্ষক ও মেমারি যোগ থেরাপি সেন্টারের সম্পাদক নয়ন মজুমদার জানিয়েছেন, জেলা স্তরের ৫৩৫ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১০–১২ বছর বয়স বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকরে জ্যোতি। এরপর রাজ্য স্তরে প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ জন প্রতিযোগীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে নিজের বিভাগে ফের শীর্ষ স্থান দখল করে । গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর যোগ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং যোগা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ রাজস্থানের ব্যবস্থাপনায় জয়পুরের অলংকার পিজি গার্লস কলেজ ক্যাম্পাসে ৫১তম সাব-জুনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় যোগাসন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে অংশ নেওয়া প্রায় ১,২০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে জ্যোতি প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
জাতীয় যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যোতির এই অভাবনীয় সাফল্যে বেজায় খুশি মেমারি যোগ থেরাপি সেন্টারের প্রশিক্ষক নয়ন মজুমদার, সুব্রত ঘোষ, সুতপা মজুমদার, সুজিত সরকার, সৌম্যজিৎ রায় ও শুভেন্দু গুই-রা। তাঁদের প্রত্যাশা আগামী দিন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও জ্যোতি আরও বড় সাফল্যে লাভ করবে। খুদে প্রতিভাবান জ্যোতির এখন একটটাই, লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো।।
