এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),২৯ অক্টোবর : তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পূর্ব বর্ধমান জেলার নিগন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যেই “অনৈতিক সম্পর্কে” জড়ানোর অভিযোগ উঠল । এই অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের পাশাপাশি এলাকার একাধিক গ্রামেও প্রধান বৈশাখী মাজি এবং উপপ্রধান বাবু ঘোষের বিরুদ্ধে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে । পোস্টারগুলির কোনটিতে লেখা হয়েছে : “পঞ্চায়েতের ভিতর অপকর্ম করার জন্য প্রধান ও উপপ্রধানের গ্রেফতার চাই” । কোনোটিতে লেখা : “পঞ্চায়েতের ভিতর প্রধান ও উপপ্রধানের অপকমের ভিডিও ফুটেজ। জনসমক্ষে আনতে হবে” । একটি পোস্টারে লেখা হয়েছে : “চোর চরিত্রহীন প্রধান ও উপপ্রধানের পদত্যাগ চাই”৷
জানা গিয়েছে ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে। ওদিন নিগন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে কিছু একটা দেখতে পেয়ে প্রধান বৈশাখী মাজি এবং উপপ্রধান বাবু ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা । দুজনকে কিছুক্ষণ আটকে রাখা হয়। পরের দিন বুধবারেও কিছু গ্রামবাসী জড়ো হয়ে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রধান ও উপপ্রধানের বসার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন । আজ এদিন বৃহস্পতিবার দেখা যায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী পঞ্চায়েত কার্যালয়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা পঞ্চায়েত অফিসে প্রধান ও উপপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করে পোস্টার সাঁটিয়ে দেন। যদিও পঞ্চায়েতের কর্মীরা স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন বলে জানা গেছে ।
বিক্ষোভকারী রাজু দত্ত, সুকান্ত মির্ধারা বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে দুজনকে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরেই অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় । এমনিতেই প্রধান এবং উপপ্রধানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল । তার উপর এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ হয় । তাই সাধারণ মানুষ প্রধান ও উপপ্রধানের পদত্যাগের দাবি করেছেন ।’ পাশাপাশি ওদিনের ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন তিনি ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে উপপ্রধান বাবু ঘোষের বাড়িতে যাওয়া হলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন তিনি বাড়িতে নেই৷ অন্যদিকে প্রধান বৈশাখী মাজি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত । সংবাদমাধ্যমের কাছে মতামত দেওয়ার মত অবস্থায় নেই ।’।
