এইদিন ওয়েবডেস্ক,গুয়াহাটি,০৩ আগস্ট : নিজের বাড়ির ভিতরেই পড়ে রয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্রীর মাথা ও মুখ থেঁতলানো নিথর রক্তাক্ত দেহ । মেয়েটির নিম্নাঙ্গের দিকে দিকে নজর পড়তেই শিহরিত হয়ে ওঠেন অসমের হাইলাকান্দি জেলার দক্ষিণ হাইলাকান্দির বাসিন্দারা । কারন ছোট্ট মেয়েটির যৌনাঙ্গে ঢোকানো ছিল লোহার রড,মদের বোতলসহ অন্যান্য সামগ্রী । মৃতদেহ এমন অবস্থায় উদ্ধার হয় যে পরিবারের লোকজনই তা শনাক্ত করতে পারছিলেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ মেয়েটিকে গনধর্ষণের পর অকথ্য যন্ত্রণা দিয়ে তাকে খুন করে অন্তত ৪-৫ জন নরপশু । ওই নরপশুদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে এনকাউন্টার করার দাবি উঠছে এলাকায়।
হাইলাকান্দির অলইছড়া চতুর্থ খন্ডের বাসিন্দা ওই কিশোরীর বাড়িতে রয়েছেন তার বিধবা মা । শনিবার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বনভোজনে যোগ দিয়েছিল মা ও মেয়ে। এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর মেয়েটি একাও বাড়ি ফিরে এসেছিল । বাড়িতে একাই ছিল মেয়েটি । এরপর শনিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ মা বাড়ি ফিরে এসে আর্তনাদ করে ওঠেন । ছুটে আসে প্রতিবেশীরা ৷ ছোট্ট মেয়েটির উপর চালানো নারকীয় অত্যাচারের চিহ্ন দেখে শিউরে ওঠেন সকলে।
সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) অমিতাভ সিনহা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এখনও নিশ্চিত হওয়া বাকি। পরিবারের দাবি যে মেয়েটিকে যৌন গনধর্ষণ করা হয়েছে, তবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। আমরা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছি ।’
জানা গেছে,দক্ষিণ হাইলাকান্দির বাসিন্দা নিহত ১৫ বছরের ওই কিশোরী দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল । বছর দুয়েক আগে মেয়েটির দাদা ও বাবা মারা গেছেন । বাড়িতে আছেন শুধু তার মা । অত্যন্ত হতদরিদ্র পরিবার । একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন নিহত কিশোরীর মা ।।
