এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১২ জুন : আজ শুক্রবার মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা ছাড়াও বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল । উপস্থিত ছিলেন মালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী ও উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন৷ তৃণমূলের দুই মুসলিম বিধায়কই মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ।
আব্দুর রহিম বক্সী বলেন,খুব ভালো মিটিং হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যে কথাগুলো বলেছেন তা খুবই পজিটিভ। উনি যে কথাগুলো বলেছেন সেই মতো কাজ হলে মালদার সার্বিক, সুসংগঠিত উন্নয়ন হবে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর মিটিং-এ অংশ নিয়ে তারা বেশ সন্তুষ্ট । অন্যদিকে মোশারফ হোসেন বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াকে “খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ” বলে মন্তব্য করেছেন । পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়নের বিষয়েও তিনি আশাবাদী বলেও জানান ।
মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম মালদা সফরে করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মালদা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে সরাসরি বিজেপির জেলা কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদা শহরের বিজেপি কার্যালয়ে বৈঠক শেষে মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি । মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, সাংসদ, বিধায়ক এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন । বৈঠকে সংশ্লিষ্ট চার জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো, জনপরিষেবা ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় ।জেলার নদী ভাঙ্গনের সমস্যার সমাধান, মালদা এয়ারপোর্টে বিমান পরিষেবা চালু, জেলার আমকে শিল্পজাত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবী সহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয় মুখ্যমন্ত্রীর সামনে। তৃণমূলের বিধায়করা যেমন নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন পাশাপাশি শাসকদলের বিধায়ক এবং সাংসদরাও উন্নয়নের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে মালদা কলেজ অডিটোরিয়াম এর দুর্গা কিংকর সদনে চলে বৈঠক।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মালদা শহরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মালদা বিমানবন্দর, হেলিপ্যাড এলাকা এবং মালদা কলেজ অডিটোরিয়াম চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মী। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।।
