এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,০৯ আগস্ট : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে। বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসা শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়া এবং সেখানে তাকে কথিত বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকেই তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে । তার জেরে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেছে।
ছাত্র আন্দোলনের নামে বাংলাদেশের জিহাদি অভ্যুত্থানে দুই বছর পূর্তিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এই সাংবাদিক সম্মেলনটি আয়োজন করেছিল । বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র ৮ আগস্ট এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনার পর ব্রিকস আউটরিচে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের আর কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সংস্থা বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১৪ জুলাই ঢাকাস্ত ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভারত একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবে এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক চাইবে—এ দুটি বিষয় সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
অন্যদিকে, প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে করা শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন বা অনুমোদন করে না।
সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও দুদেশের কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ হয়নি। সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করছেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এখন শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ভারতের সঙ্গে সরকারি সংঘাতে জড়ানোয় নয়াদিল্লি কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার বিষয় ।।
