এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),০৯ আগস্ট : কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে কুপিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার খুদরুন গ্রামে ৷ আজ রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে ধান জমির আলে ওই মহিলার বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ বস্তা চাপা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ৷ পুলিশ জানিয়েছে,মৃতার নাম অপর্ণা দাস(৩৩) । এই ঘটনায় একই পাড়ার বাসিন্দা নন্দ কুষমেটে (৩৮) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ । সে খুনের কথা কবুলও করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । জানা গেছে,অভিযুক্ত নন্দকে পাড়ার সম্পর্কে কাকু বলে ডাকতেন মৃত অপর্না ।
জানা গেছে,মঙ্গলকোটের খুদরুন গ্রামের বাসিন্দা অপর্ণা দাসের স্বামী বাপন দাস ও ছেলে শুভ দাস (১৬) দু’জনেই পরিযায়ী শ্রমিক । বাপন দাসরা তিন ভাই। বাকি দুই ভাই গ্রামের অন্য একটি পাড়ায় থাকেন। পৈতৃক বাড়ি থেকে বেশকিছুটা দূরে ঘর তৈরি করেছিলেন বাপন । সেখানেই একাই থাকতেন অপর্ণা ।
স্থানীয় সূত্রে খবর,রাজু দাস(২৮) ওরফে বিক্রম নামে খুদরুন গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়া সম্পর্ক ছিল অপর্না দাসের । রাজুর দুটি বিয়ে। কিন্তু দুবারই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় । অপর্না দাসের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল । তাদের দু’জনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের কথা অপর্ণার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানতো বলে জানা গেছে । শনিবার সন্ধ্যাতেও অপর্নার কাছে এসেছিলেন রাজু । একসাথে খাওয়া দাওয়া সেরে রাত প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ রাজু নিজের বাড়িতে চলে যান । তারপর আজ সকালে মাঠে চাষের কাজ করতে গিয়ে আলের উপর বস্তায় ঢাকা অপর্নার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন খেতমজুররা । পরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় ।
জানা গেছে,এদিন সকালে দেহ উদ্ধারের পর পুলিশের প্রথমদিকে সন্দেহ হয়েছিল রাজুর প্রতি । কিন্তু তাঁকে জেরা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে সে খুনি নয় । এরপর পুলিশ নন্দ কুষমেটেকে আটক করে জেরা করতেই সে নিজের অপরাধের কথা কবুল করে ।
জানা গেছে,নন্দ কুষমেটে প্রায়ই ওই মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিত । কিন্তু মহিলা প্রতিবারই তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন । সেই আক্রোশে শনিবার রাতে রাজু বেরিয়ে যাওয়ার পর নন্দ মদ্যপ অবস্থায় অর্পনাদের বাড়িতে আসে । প্রথমে সে ফের কুপ্রস্তাব দেয় । কিন্তু অপর্না রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাকে কিল ঘুঁষি চালাতে থাকে নন্দ । এরপর ধারালো একটি অস্ত্র তুলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে । মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন । এরপর মহিলার মাথার দিকে বস্তা মুড়ে কিছুটা টানতে টানতে দেহটা নিয়ে আসে নন্দ। তারপর ধান জমির আলের উপর দেহটি বস্তায় ঢাকা দিয়ে সে পালিয়ে যায় ।।

