প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৯ আগস্ট : বাংলার মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলো উত্তরপ্রদেশের এক বাসিন্দা ধৃতের নাম কৌশল কুমার । উত্তরপ্রদেশের শাজাহানপুর জেলার সিধাউলি থানার কিরাটপুরে তার বাড়ি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ শুক্রবার হাওড়া স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শনিবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান সিজেএম আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে ১৪ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম ধৃতকে সাতদিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুর থানা এলাকায় ওই নির্যাতিতা মহিলার শ্বশুরবাড়ি। বর্তমানে তিনি হুগলির দাদপুর থানা এলাকায় থাকেন। ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের বছরখানেক পর তাঁর একটি ছেলে হয়। সন্তানের জন্মের পর মহিলার উপর অত্যাচার শুরু করে তাঁর স্বামী। তাঁকে মারধর করা হতো। তা সত্ত্বেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতেন। দিনের পর দিন তাঁর উপর অত্যাচার বাড়তে থাকে। গত বছর তাঁকে মারধর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি বাপেরবাড়িতে ফিরে যান। পরে তিনি দাদপুর থানা এলাকায় এক বাসিন্দার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১৬ মে জামালপুর থানার বাঘকালাপাহাড় এলাকার কয়েকজন মহিলাকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ওই মহিলাকে জোর করে তাঁকে কৌশল কুমারের হাতে তুলে দেয়। কৌশল কুমার মহিলাকে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখে। এমনকি ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে বিয়ে করে কৌশল। এরপর কৌশল ও তার একাধিক বন্ধু মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে বলে মহিলার অভিযোগ।
মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, এইভাবে ছ’মাস চলার পরে তাঁকে হরিয়ানার পানিপথ এলাকায় একটি কারখানায় নিয়ে গিয়ে রাখে কৌশল। সেখানে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিনের পর দিন তাঁকে গণধর্ষণ করে কয়েকজন। তাঁর উপর নির্মম অত্যাচারের ফলে মহিলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ১৯ জুন কৌশল কুমার মহিলাকে তাঁর বাপেরবাড়িতে রেখে দিয়ে পালিয়ে যায়। মহিলা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান । তখন তিনি জানতে পারেন, তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই তিনি জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।।
