শীতলা লৌকিক দেবী। শীতলা পুরাণে গৃহীত
হয়ে পৌরাণিক দেবীতে পরিণত হয়েছেন।সাধারণভাবে দেবী বসন্ত রোগের জ্বালা নিবারণ করে
শীতল করেন বলে শীতলা নামে পরিচিত হয়েছেন। বসন্ত ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে শীতলা পূজা করা হয়।
দেবী শীতলাকে ঠাকুরানি জাগরণী,
করুণাময়ী, দয়াময়ী প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়। শীতলা কুমারী,মাথায় কূলাকৃতির মুকুট এবং গর্দভের উপর উপবিষ্ট। গর্দভ তাঁর বাহন। স্কন্দপুরাণে শীতলা দেবী শ্বেতবর্ণা ও দুহাত বিশিষ্ট। তাঁর দুহাতে রয়েছে পূর্ণকুম্ভ ও সম্মার্জনীধারণী। কথিত আছে সম্মার্জনীর
মাধ্যমে তিনি অমৃতময় শীতল জল ছিটিয়ে রোগ, তাপ,শোক দূর করেন। কখনো কখনো তিনি নিমের পাতা বহন করে থাকেন। নিম রোগ প্রতিরোধকারী উদ্ভিদ।
শ্রী শীতলা দেবী অষ্টকম্ স্কন্দপুরাণ থেকে সংগৃহীত মাতা শীতলার একটি অত্যন্ত পবিত্র ও রোগনাশক স্তোত্র।
শীতলাষ্টকম্
অস্য শ্রীশীতলাস্তোত্রস্য মহাদেব ঋষিঃ অনুষ্টুপ্ ছংদঃ শীতলা দেবতা লক্ষ্মীর্বীজং ভবানী শক্তিঃ সর্ববিস্ফোটকনিবৃত্যর্থে জপে বিনিয়োগঃ ॥
ঈশ্বর উবাচ ।
বংদেঽহং শীতলাং দেবীং রাসভস্থাং দিগম্বরাম্ ।
মার্জনীকলশোপেতাং শূর্পালংকৃতমস্তকাম্ ॥২॥
বংদেঽহং শীতলাং দেবীং সর্বরোগভয়াপহাম্ ।
যামাসাদ্য নিবর্তেত বিস্ফোটকভয়ং মহত্ ॥১॥
শীতলে শীতলে চেতি যো ব্রূয়াদ্দাহপীড়িতঃ ।
বিস্ফোটকভয়ং ঘোরং ক্ষিপ্রং তস্য প্রণশ্যতি ॥৩॥
যস্ত্বামুদকমধ্যে তু ধ্য়াত্বা সংপূজয়েন্নরঃ ।
বিস্ফোটকভয়ং ঘোরং গৃহে তস্য ন জায়তে ॥৪॥
শীতলে জ্বরদগ্ধস্য পূতিগন্ধয়ুতস্য চ ।
প্রণষ্টচক্ষুষঃ পুংসস্ত্বামাহুর্জীবনৌষধম্ ॥৫॥
শীতলে তনুজান্ রোগান্ নৃণাং হরসি দুস্ত্যজান্ ।
বিস্ফোটকবিদীর্ণানাং ত্বমেকাঽমৃতবর্ষিণী ॥৬॥
গলগণ্ডগ্রহা রোগা যে চান্যে দারুণা নৃণাম্ ।
ত্বদনুধ্যানমাত্রেণ শীতলে যাংতি সংক্ষয়ম্ ॥৭ ॥
ন মংত্রো নৌষধং তস্য পাপরোগস্য বিদ্যতে ।
ত্বামেকাং শীতলে ধাত্রীং নান্যাং পশ্যামি দেবতাম্ ॥৮॥
মৃণালতংতুসদৃশীং নাভিহৃন্মধ্যসংস্থিতাম্ ।
যস্ত্বাং সংচিংতয়েদ্দেবি তস্য মৃত্য়ুর্ন জায়তে ॥৯ ॥
অষ্টকং শীতলাদেব্যা যো নরঃ প্রপঠেত্সদা ।
বিস্ফোটকভয়ং ঘোরং গৃহে তস্য ন জায়তে ॥১০॥
শ্রোতব্যং পঠিতব্যং চ শ্রদ্ধাভক্তিসমন্বিতৈঃ ।
উপসর্গবিনাশায় পরং স্বস্ত্যয়নং মহত্ ॥১১॥
শীতলে ত্বং জগন্মাতা শীতলে ত্বং জগত্পিতা ।
শীতলে ত্বং জগদ্ধাত্রী শীতলায়ৈ নমো নমঃ ॥১২॥
রাসভো গর্দভশ্চৈব খরো বৈশাখনন্দনঃ ।
শীতলাবাহনশ্চৈব দূর্বাকংদনিকৃংতনঃ ॥১৩॥
এতানি খরনামানি শীতলাগ্রে তু যঃ পঠেত্ ।
তস্য গেহে শিশূনাং চ শীতলারুঙ্ ন জায়তে ॥১৪॥
শীতলাষ্টকমেবেদং ন দেয়ং যস্যকস্যচিত্ ।
দাতব্যং চ সদা তস্মৈ শ্রদ্ধাভক্তিয়ুতায় বৈ ॥১৫॥
।। ইতি শ্রীস্কন্ধদপুরাণে শীতলাষ্টকম্ ॥
শীতলা দেবীর স্বরূপ ও পরিচিতি
দেবী শীতলা গর্দভবাহনা ও দিগম্বরা রূপিণী, যাঁর হাতে মার্জনি (ঝাঁটা) ও মঙ্গলকলস থাকে।তিনি উগ্র জ্বর ও বিস্ফোটক (বসন্ত) রোগের ভয় দূরকারী এবং করুণাময়ী।
স্তোত্র পাঠের উপকারিতা
নিয়মিত এই অস্টক পাঠ করলে ঘরে গুটিবসন্ত বা উগ্র জ্বরের মারাত্মক ভয় থাকে না।
ভক্তিভরে পাঠ বা শ্রবণ করলে পরিবারের শিশু ও সদস্যদের রোগবালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
এটি ভক্তদের সমস্ত বিঘ্ন ও পাপনাশক হিসেবে বিবেচিত হয়।
শীতলা পূজাসাধারণত শ্রাবণ মাসের শুক্লা সপ্তমী তিথিতে দেবী শীতলার পূজা করা হয়। পূজামন্দিরে বা শীতলা পূজার নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের মাধ্যমে শীতলা পূজা করা হয়। পূজার পদ্ধতি অন্যান্য পূজার অনুরূপ হলেও এই দেবীর পূজার সময় ঠাণ্ডা জাতীয় ফলের প্রয়োজন হয়। পেঁপে,নারিকেল, তরমুজ, কলা ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় উপকরণ দেবীর উদ্দেশে সমর্পণ করা হয়। এই পূজায় সকল শ্রেণির ভক্ত অংশ্রহণ করে থাকে।
পূজার প্রণাম মন্ত্র
ওঁ নমামি শীতলাং দেবীং রাসভস্থাং দিগম্বরীম্।
মার্জ্জনীকলসোপেতাং সূর্পালঙ্কৃতমস্তকাম্।
সরলার্থ :
গর্দভ বাহন মার্জনী (ঝাঁটা) ও কলস-হস্তা শীতলা
দেবীকে প্রণাম করি।
শীতলা পূজার গুরুত্ব
১. শীতলা দেবী বসন্ত রোগ থেকে আমাদের মুক্ত
করে আমাদের শীতল করেন। এ কারণে তিনি
সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছেন।
২. দেবী শীতলাকে স্বাস্থ্যবিধি পালন বা পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতার দেবী বলা হয়। শীতলা পূজার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্য বিধি ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকি।
৩. দেবী শীতলার দুই হাতে রয়েছে পূর্ণকুম্ভ ও
সম্মার্জনী । কথিত আছে সম্মার্জনীর মাধ্যমে
তিনি অমৃতময় শীতল জল ছিটিয়ে রোগ, তাপ, শোক
দূর করে শীতল করেন। দেবী নিমের পাতা বহন করে থাকেন। নিমবৃক্ষ রোগ প্রতিরোধকারী উদ্ভিদ।
