প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৮ জুন : বুধবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার অন্তর্গত মুইদিপুর এলাকায় দামোদরে চড়ে উদ্ধার হওয়া রক্তাক্ত কিশোরের পরিচয় প্রকাশ্যে আনলো পুলিশ । দামোদরে চড় লাগোয়া রিভার পাম্পের কাছে দাঁড় করানো একটি লাল রঙের বাইকের সূত্র ধরেই পুলিশ খুন হওয়া কিশোরের পরিচয় জানতে পারে । পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম সৌমেন্দ্র সিনহা সরকার (১৫)৷ বর্ধমান দক্ষিণ এসডিপিও অভিষেক মণ্ডল বুধবার রাতে জানান,’নিহত কিশোরের বাড়ি হুগলী জেলার দশগড়া এলাকায়। সে সেখানকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র । লাল বাইকটি নিয়ে এই ছাত্রটি মুইদিপুরে এসেছিল । মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এই নাবালক ছাত্রটি বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার ওই দিন রাতেই হুগলীর ধনিয়াখালি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছিল ।’ এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বহিরাগত চার-পাঁচ জনকে রিভার পাম্পের কাছে জড়ো হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা । স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ যে ওই ৪-৫ জন মিলে কিশোরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করে দামোদরে জলে ফেলে দিয়েছিল এবং পরে দেহটি নদীর চড়ে ভেসে ওঠে । পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।
জামালপুরের জ্যোৎশ্রীরাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক প্রত্যন্ত গ্রাম হল মুইদিপুর।গ্রামটির খুব কাছ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ।গ্রামে দামোদর নদের কাছেই পাড়ে রয়েছে একটি রিভার পাম্প। এলাকাবাসীরা জানান,মঙ্গলবার দুপুরে ৪-৫ জন বহিরাগত যুবক ওই রিভার পাম্পের কাছে জড়ো হয়। সেখানে বসে তারা কিছু খাওয়া দাওয়া করে। পরে তারা সেখান থেকে উঠে গিয়ে কাছের দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরীর সংযোগস্থল ’বেগোর মুখ’ এলাকায় চলে যায়।তবে ওই ছেলেরা ’বেগোর মুখ’ এলাকায় চলে গেলেও লাল রঙের নম্বার প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ওইদিন দুপুর থেকে মুইদিপুরের রিভার পাম্পের কাছ ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে দাঁড় করানো অবস্থাতেই থাকে।
জানা গেছে,বুধবার সকালে দামোদরে চর থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয়ের মৃত দেহে উদ্ধারের খবর পেয়ে এদিন সকালে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌছায় তখনও রিভার পাম্পের কাছেই ওই বাইটি দাঁড় করানো ছিল । তা দেখে এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশ কে জানায় ।পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করার সময়ে মৃতের পরনে ছিল শুধুমাত্র হাফ প্যান্ট ও জাঙিয়া ।মৃত কিশোরের মুখমণ্ডল ছিল রক্তাক্ত।আর বাম চোখের উপরে কাপালের অংশে কাটা দাগ দেখা যায় । জামালপুর থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ওই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে পাঠায় । পাশাপাশি পুলিশ রিভার পাম্পের কাছে রাখা ওই বাইকটিও নিজেদের হেপাজতে নেয় ।
স্থানীয়দের বক্তব্যের ধনিয়াখালি থানার পুলিশ এখন এখন খতিয়ে দেখছে নাবালক ছাত্রটি একা মুইদিপুরে এসেছিল না কি তার সঙ্গী আরো কেউ ছিল।।
