এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৩ জুলাই : বুধবার (২২ জুলাই) লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পর, বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের আনা একটি প্রস্তাব সদনে অনুমোদনের পর স্পিকার এই বরখাস্তের ঘোষণা করেন ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভার কার্যক্রম মুলতবি হওয়ার পর কল্যাণ ব্যানার্জী মিতালী বাগ, শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ এনসিপিআই-এর কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে উত্তপ্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। কী কারণে এই বাদানুবাদের সূত্রপাত হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে বিতর্কের সময় মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং এনসিপিআই-এর অন্যান্য সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন এবং পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, কল্যাণ ব্যানার্জী মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন।
বিষয়টিকে গুরুতর বিবেচনা করে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় কল্যাণ ব্যানার্জীকে বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর, সভাপতি কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি বলেন যে, কোনো মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং এটি সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী।
এরপর কল্যাণ ব্যানার্জীকে অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং তাঁকে সংসদ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের পর, লোকসভার কার্যক্রম পরের দিন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর ২০ জন তৃণমূল সাংসদ মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। তখন থেকেই তাঁরা লোকসভায় তৃণমূল থেকে আলাদাভাবে বসে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই সাংসদরা কেন্দ্রের এনডিএ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সমর্থনও প্রকাশ করেছেন।।
