‘ককরোচ জনতা পার্টি’(সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা হলেও পৃষ্ঠপোষক যে মার্কিন ডিপ স্টেট,এটা আজ দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গেছে । সিজেপি-এর কথিত ছাত্র আন্দোলনের নামে হিংসা ছড়ানোয় বামপন্থী, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি পিছন থেকে মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ । শুধু বিজেপি বিরোধী দলগুলিই নয়,ভারতের ‘আরশোলা’দের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠী জামাত ইসলামিও । বাংলাদেশের জামাত ইসলামীর ছাত্র শাখা সক্রিয়ভাবে সমন্বিত প্রচার অভিযান চালাচ্ছে । তারা দিল্লিতে হিংসার ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভুয়ো তথ্য ছড়ানো, মোদী পালিয়ে গেছেন দেখানো,দিল্লির উপর ইসলামের বিজয়, মোদীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য মুসলমানদের আহ্বান ইত্যাদি হ্যাশট্যাগ চালাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ।
বাংলাদেশের ইংরাজি ব্লিটজ পত্রিকার সম্পাদক সালহা উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী জানিয়েছেন,মহম্মদ ইউনুস এবং মার্কিন ডিপ স্টেটের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র চলমান ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের প্রতি প্রকাশ্যে সংহতি প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এনসিপি-র সরজিস আলম লিখেছেন: “ভারতীয় ছাত্র-জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি। ঢাকায় যে বারুদ জ্বলে উঠেছে, তা যেন সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।” উল্লেখ্য,এই সেই সরজিস আলম যে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিষ উগরে দিয়েছে । আবার মাস কয়েক আগে তার বাবার চিকিৎসা করাতে সেই ভারতের কলকাতাতেই দেখা গিয়েছিল ।
বিদ্রোহ উসকে দিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে অস্ত্র পাচার করছে পাকিস্তানি আইএসআই
ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সরাতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের একটি বড়সড় চক্র যে একটা ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে রেখেছে তার প্রমান কয়েক দিন ধরেই দিয়ে আসছেন শোয়েব চৌধুরী । গতকাল তিনি প্রমানস্বরূপ এক্স-এ একটা ভিডিও পোস্ট করে লিখেছিলেন,”পাকিস্তানি আইএসআই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অস্ত্র পাচার করছে! বাংলাদেশ পুলিশ কুমিল্লা-আগরতলা সীমান্ত থেকে একটি তিন চাকার যান আটক করেছে, এক মাদ্রাসার শিক্ষকের ব্যাগ তল্লাশি করে বেশ কয়েকটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইএসআই-এর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার করছে।”
রাহুল গাঁধি ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট তদন্তের দাবি
এর আগে শোয়েব চৌধুরী আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন । তিনি লিখেছিলেন,’ভারতের বিরুদ্ধে বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র! কুখ্যাত সোরোসরা আবারও ভারতকে অস্থিতিশীল করার দিকে নজর দিচ্ছে।’ সেই সাথে তিনি ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়ে লেখেন,’জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা প্রয়োজন :
১. তথাকথিত এই আন্দোলনের সময় ব্যাকপ্যাক বহন নিষিদ্ধ করা, কারণ সাধারণত তারা এর মধ্যে অ্যামফিটামিন, বিস্ফোরক এবং অস্ত্র বহন করে,
২. ষড়যন্ত্রকারীরা স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে পারে এবং এর দায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপর চাপিয়ে দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে,
৩. বিক্ষোভ এলাকায় মোবাইল ফোনের সিগন্যাল জ্যাম করা,
৪. গ্রেপ্তারকৃত বিক্ষোভকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা,
৫. আন্দোলনের নেতাদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সেলিব্রিটিদের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট তদন্ত করা,
৬. সোরোসের প্রতিনিধির সাথে রাউল ভিঞ্চির (রাহুল গাঁধি) সাম্প্রতিক বৈঠক সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা,
৭. রবার্ট ভাদ্রারার ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট তদন্ত করা,
৮. অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তার স্ত্রীর ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট তদন্ত করা,
৯. দাউদ ইব্রাহিমের সাথে যুক্ত চলচ্চিত্র তারকাদের উপর নজরদারি জোরদার করা,
১০. সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নজরদারি জোরদার করা।
প্রাক্তন বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজুর “আরশোলা পার্টি” র কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ
শুধু শোয়েব চৌধুরী নয়, মোদী সরকারের সমালোচক বলে পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু পর্যন্ত ‘আরশোলা’দের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । তিনি এক্স-এ লিখেছেন,’যন্তর মন্তরের তেলাপোকাগুলো আসল তেলাপোকার মতোই আচরণ করছে, যারা আলো পড়লেই পালিয়ে যায়।আমি বারবার এই প্রশ্নটা করেছি, কিন্তু কোনো তেলাপোকা সাড়া দেয়নি, স্পষ্টতই কারণ তাদের কাছে কোনো উত্তর নেই:
প্রধান বিচারপতির দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি কেন পদত্যাগ করবেন?
প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে।প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় কেন?
ভারতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে, শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রেই নয়, সর্বত্রই। সুতরাং, ভারতে দুর্নীতি বন্ধ না হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস চলতেই থাকবে, এবং শুধু শিক্ষামন্ত্রী বদল করে কোনো লাভ হবে না।আর দুর্নীতি বন্ধ হবে না, যেমনটা আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে স্পষ্ট, যা কোনো সাফল্য ছাড়াই ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল।সুতরাং, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিটি বোকার মতো ও তুচ্ছ, এবং এটি যন্তর মন্তর ও অন্যত্র জড়ো হওয়া বোকা যুবকদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই তেলাপোকাগুলোর নির্বোধ মাথায় এই সাধারণ যুক্তিটা ঢোকে না, আর এদের সাথে কথা বলাটা দেওয়ালে মাথা ঠোকার মতো।’
আসলে,বর্তমানে দিল্লির যন্তরমন্তরের সামনে, প্রতিবাদ আর আন্দোলনের নামে যে দেশ বিরোধী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সেই অস্থিরতাকে আরও বড় সংঘর্ষে পরিণত করে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর মুখ্য উদ্যেশ্য।কোটি কোটি টাকার বিদেশি ফান্ড, রাশি রাশি খাবার দাবার… কোথায় পেলো আন্দোলনকারীরা ?
সব সীমা ছড়িয়ে গেছে তারা। সাংবাদিক(এমনকি মহিলা), সংবাদমাধ্যম, পুলিশ কেউ ছাড় পায়নি ওদের ওই জঙ্গি আন্দোলনের হাত থেকে।বিষয়টা তো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়াতে আটকে ছিল না, বরং সেটা বাদ দিয়ে বাকি সব রাজনৈতিক এজেন্ডা সামনে এসেছে একের পর এক। দেশকে টুকরো করার পরিকল্পনাকারী ব্যক্তিগণ উল্লাসে মেতেছিলেন এই ভেবে যে মোদী এবার ভয়ে দেশ ছেড়েই পালাবেন। ঠিক যেমন অপপ্রচার করলো দুদিন আগে, মোদী নাকি ওদের দেখে ভয় পেয়ে পিছন দিক থেকে পালিয়ে গেছেন।
সেনার পোশাক পরে সরকারকে হুমকির ভিডিও
গতকাল থেকে সেনা বাহিনীর পোশাক পরে তিন যুবকের সরকারকে হুমকি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । নিজেদের অগ্নিবীর পরিচয় দেওয়া ওই যুবকরা খোলাখুলি দিল্লি পুলিশকেই চ্যালেঞ্জ জানায়৷ ভারতীয় সেনার এক কর্নেল এক্স-এ লিখেছেন ((https://x.com/i/status/207990937 0666 557846)),’সবচেয়ে বড় টাইম বোমাগুলোর মধ্যে একটি হলো অগ্নিবীররা। তাদের তালিকাভুক্ত প্রথম ব্যাচটি শীঘ্রই ছাড়া পেতে চলেছে। ইন্টারনেট এমন সব ভিডিওতে ভরা যেখানে অগ্নিবীররা যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য পোস্ট করছে। এটা প্রকৃত সমর্থন নয়, বরং তাদের নিজেদের নিরাপত্তাহীনতারই প্রকাশ। এটা চরম শৃঙ্খলাহীনতা এবং এটাকে চলতে দেওয়া যায় না। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; এমনটা ঘটারই কথা ছিল। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, এর দায়ভার সরকার এবং তৎকালীন সিএওএস জেনারেল পান্ডের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে, যিনি যে কারণেই হোক পিএমও-র চাপে নতি স্বীকার করেছিলেন। কৃতকর্মের ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। একটি পচা পরিকল্পনা যার সঠিক স্থান হলো আবর্জনার স্তূপ। তবে, এই মুহূর্তে দেশের স্বার্থে, সামরিক আইনের পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করে তাদের এই শৃঙ্খলাহীনতাকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে।’
পশ্চিমবঙ্গেও উসকানি দিতে শুরু করেছে বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির
এদিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে দেখা যাচ্ছে বামপন্থীদের । শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে সমস্ত বামপন্থী ও উগ্র বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। এসএফআই আবার ওই দিনই দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। একইসঙ্গে ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ নামে নেওয়া হয়েছে রাত দখলের মতো কর্মসূচিও। আগামী শনি ও রবিবার দেশের সর্বত্র পুলিশ কর্মীদের হাতে মেলোডি টফি এবং ফুল তুলে দেবে এসএফআই। আজ, বৃহস্পতিবার লোকভবনের সামনে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে অন্যান্য বাম সংগঠনও।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাদের আগাম সতর্কও করে দিয়েছেন । গতকাল বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি দেন,’যাদবপুর পার্টি সাবধান থাকুন। উসকানি দিতে শুরু করেছেন। আমি লক্ষ রাখছি। বেশি বাড়তে দেব না। আমাদের কিন্তু দুর্বল সরকার নয়। আমাদের শক্তিশালী সরকার ।’।
