এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,২০ এপ্রিল : ২০২৬-এ এরাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন “ফ্রী অ্যান্ড ফেয়ার” করার জন্য কোনো কসুর রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন । এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ৯০ লাখের অধিক ‘ভূয়ো ভোটারের’ নাম বাদ গেছে । এবারে বুথ দখল,ছাপ্পা ভোট আটকাতে ভোটের দিন আরো কঠোর ভূমিকা নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন । রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল আজ সোমবার ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন,’ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। নির্বাচন কমিশনের বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া কেউই ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।’ অর্থাৎ, এবারে বুথের মধ্যে রাজ্য পুলিশেরও নো এন্ট্রি করে দিয়েছে কমিশন ।
ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ মালদহ জেলা প্রশাসনিক ভবনে একটি বৈঠক করেন রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল । বৈঠকে রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিমাংশু কুমার লাল,জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন । বৈঠক শেষে মনোজ আগরওয়াল কন্ট্রোল রুম খতিয়ে দেখেন । কন্ট্রোল রুম অপারেটরকে তিনি বেশ কিছু পরামর্শও দেন । পরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, পোলিং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। বুথে কেউ ঢুকতে পারবে না ! যে ভোটার নয়, যার কাছে RO থেকে সার্টিফিকেট নেই,তারা কেউই বুথে ঢুকতে পারবে না ।’
তিনি বলেন,’নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় CAPF থাকবে। ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে৷ যেখানে গন্ডগোল হবে সেখানেই ম্যাজিস্ট্রেট যাবে। রাজ্য পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা দেখবে। BLO থেকে শুরু করে কার কি কাজ আছে আমরা কি ধরনের অ্যাকশন করব সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি বেশি গন্ডগোল হয়, অভিযোগ আসে আমরা রি-পোল জানাবো ।’
তিনি বলেন,’ওসিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুই এক জন সাসপেন্ড হয়েছে। তাদের সাথেও আমরা বৈঠক করব। কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আছে সেটাও খতিয়ে দেখব। আইনের উপর কেউ নয় ।’ তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন,’এবার শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ ভোট হবে, কেউ ভয় করবেন না।’ তিনি বলেন,’পরিযায়ী শ্রমিক যারা এখানে আসবেন,ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু তাদের হয়ে অন্য কেউ ভোট দিতে পারবে না। ট্রাইব্যুনাল যাদেরকে অ্যাড করবে তাদের নাম আমরা ভোটার লিস্টে উঠেয়ে দেবো । যাদের বাদ দেবে তাদের নাম কাটা যাবে। পোস্টাল ব্যালট শুরু হয়েছে। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর ভোট দেওয়া নিশ্চিত করব আমরা।’
তিনি আরও জানান,কন্ট্রোলরুম প্রত্যেক জেলাতে হচ্ছে, সিও দপ্তরে হচ্ছে। প্রত্যেক বুথ কভার হবে। প্রত্যেক বিধানসভায় তিনটি করে স্কিন থাকবে। প্রত্যেকটা সময় নজরদারি চালানো হবে। যারা নজরদারি চালাবেন তাদের নির্দিষ্ট সময় রিপোর্ট দিতে হবে কি দেখলেন না দেখলেন। যারা নজরদারি চালাচ্ছেন তাদের সম্পূর্ণ রিপোর্ট দিয়ে লিখিতভাবে জানাতে হবে।’
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান,এবার তিন জায়গায় সিসিটিভি নজরদারি হচ্ছে। RO অফিসে হচছে DO অফিসে হচ্ছে এবং CO অফিসে হচ্ছে। বুথে যে CAPF থাকবে ভেতরে সে সবসময় নজর রাখবে৷ কোন গন্ডগোল হলে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেবে। আমরা সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ স্বচ্ছতা রাখার প্রয়াস চালাচ্ছি। সিভিক ভলেন্টিয়াররা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো ডিউটিতে থাকবে না। তারা সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করবে। এবার খুব কড়া ও শক্ত নির্বাচন হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ।।
