এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৪ অক্টোবর : মুসলিম অভিবাসীদের উসকে দিয়ে ফ্রান্স জুড়ে হিংসার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে উগ্র বামপন্থীরা ! তরুণ অভিবাসী ও বামপন্থীরা স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তায় সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোয় ফ্রান্স জুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এক মহিলার মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ ফরাসি পুলিশের কোনো চিহ্নই নেই। অভিযোগ উঠছে যে, বামপন্থীদের উন্মুক্ত সীমান্ত নীতিরই এই পরিণতির জন্য দায়ি ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জানা গেছে,মার্সেইতে স্প্রে ব্যবহার করে ফ্লেমথ্রোয়ার বানানোয় এক মহিলার মুখ ঝলসে গেছে । জরাজীর্ণ স্কুল এবং শিক্ষক সংকট নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন গোটা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার এই পরিস্থিতিকে শহুরে হিংসা বলে অভিহিত করছে।
পয়লা অক্টোবর একটি দমকলকর্মীর ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অধ্যক্ষ ও একজন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন, মেট্রো চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২,০০০-এরও বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছে।ফ্রান্স জুড়ে প্রায় ৩,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার এর জন্য কট্টর-বামপন্থী সংগঠন ‘লা ফ্রঁস আঁসুমিজ’-কে দায়ী করছে, যারা মুসলিম অভিবাসীদের সহিংসায় উস্কানি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
মার্সেইতে স্কুল অবরোধের অস্থিরতার সময়, হুড পরা এক বিক্ষোভকারীকে একটি অ্যারোসল ক্যান ও লাইটারকে তাৎক্ষণিক ফ্লেমথ্রোয়ারে পরিণত করে এক মহিলার মুখের দিকে আগুন তাক করতে দেখা গেছে । রাস্তায় বহু গাড়ি ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে । খবর অনুযায়ী,১৭০ জন শিক্ষার্থী ও ৬৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন এবং শত শত স্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত বা বন্ধ হয়ে গেছে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে ।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, ‘এলএফআই’ (LFI) এবং উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে; তাঁর মতে, সহিংস ও উগ্রপন্থী ছোট ছোট দল আন্দোলনটিকে কার্যত ‘পনবন্দি’ করে ফেলেছে। অবশ্য এলএফআই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।।

