এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেরালা,১৮ এপ্রিল : ভগবান কৃষ্ণের বাল্যরূপ দেখিয়ে মুরগির মাংসের বিরিয়ানির বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেরালার চেরথালায় (Cherthala) ‘মেহর মান্ডি অ্যান্ড গ্রিলস’-এর মুসলিম মালিক মহম্মদ শেমির (Mohammed Shemir) বিরুদ্ধে । এনিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় । অভিযোগটি দায়ের করেন থান্নীরমুক্কমের আইনজীবী এমভি বিজু। পুলিশ জানিয়েছে, ভগবান কৃষ্ণের ছবিসহ চিকেন মান্ডির (হলুদ ভাতের সাথে গ্রিল করা মুরগির মাংস পরিবেশন করা একটি খাবার) ছবি সম্বলিত একটি বিশু শুভেচ্ছা কার্ডকে কেন্দ্র করে হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের জেরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । তবে এনডিটিভি-এর অনলাইন এডিশনে জানানো হয়েছে যে ধৃত ব্যক্তি হলেন চেরথালার মনোরমা জংশনের কাছে অবস্থিত ‘মেহর মান্ডি অ্যান্ড গ্রিলস’-এর মালিক আরশাদ। সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা উস্কে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ কাজের জন্য পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিধানে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড।
সামাজিক মাধ্যমে “বিশু উৎসবের” একটি শুভেচ্ছা পোস্টার ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে ভগবান কৃষ্ণের বাল্যরূপকে গ্রিল করা মুরগির মাংসসহ এক থালার সামনে বসানো হয়েছে । হিন্দু সংগঠনগুলো এই চিত্রায়ণের প্রতিবাদ জানায় এবং অভিযোগ করে যে এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সেই ‘মেহর’ মান্ডি দোকানের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মিছিল করে৷ প্রচুর হিন্দু মহিলা তাতে অংশ নেন ।
এর আগে, প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম ব্যবস্থাপনা অংশীদার শামির ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে বলেন, পোস্টটি ইচ্ছাকৃতভাবে শেয়ার করা হয়নি এবং এটি প্রাথমিকভাবে একটি ব্যক্তিগত গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে আপত্তি উঠেছিল।তিনি বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে ছবিটি পরে ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল এবং সরিয়ে ফেলার আগেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন যে, রেস্তোরাঁটির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ও বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
রাষ্ট্রজ্যোতি সংস্থার কর্ণধার স্বাতী গোয়েল শর্মা ওই বিতর্কিত পোস্টার ও ধৃত রেস্তোরাঁর মালিকের ছবি এক্স-এ পোস্ট করে লিখেছেন,’মাংসের বিরিয়ানির সাথে ভগবান কৃষ্ণের বাল্যরূপ দেখিয়ে রেস্তোরাঁর বিজ্ঞাপন প্রকাশ । রেস্তোরাঁর নাম – মেহের মান্ডি অ্যান্ড গ্রিলস (Meher Mandi & Grills) । রেস্তোরাঁর মালিক – মোহাম্মদ শেমির(Mohammed Shemir), মুসলিম লীগ নেতার ছেলে।’ তিনি লিখেছেন,’দেখুন, তারা কীভাবে প্রতিদিন সীমা অতিক্রম করছে। তারা ভালো করেই জানে যে এর তেমন কোনো পরিণতি হবে না। বড়জোর, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য মামলা করা হবে এবং জামিন পাওয়া সহজ হবে। জিহাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এ এক সামান্য ত্যাগ এদিকে ইন্টারনেট এই ভুল তথ্যে ছেয়ে গেছে যে কৃষ্ণ এবং রাম শুধু মাংসই নন, গরুর মাংস।তারা এই বিজ্ঞাপনের জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়ার একটি বড় নাটক করবে এবং এই প্রক্রিয়ায় হয়তো মেরুদণ্ডহীন হিন্দুদের সহানুভূতিও অর্জন করে ফেলবে।’
পাশাপাশি ইসকনের কলকাতা শাখার সহ সভাপতি রাধারমন দাস এক্স-এ লিখেছেন,’কেরালার একটি আমিষভোজী, মুসলিম মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ বিশুর একটি বিজ্ঞাপনে মাংসের পাশে শিশু কৃষ্ণের ছবি ব্যবহার করেছে। রেস্তোরাঁটির মালিক হলেন মোহাম্মদ হিশাম ও মোহাম্মদ উভাইস। কেন্দ্রীয় সরকারকে এতটাই অসহায় মনে হচ্ছে যে, নূপুর শর্মার কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারলেও, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস তাদের নেই। হিন্দুদের অনুভূতি রক্ষার ক্ষেত্রে এমন সরকারকে অকার্যকর বলেই মনে হয়। দয়া করে ব্যবস্থা নিন এবং এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করুন।’।
