এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১২ জুলাই : এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে নগদ টাকা আদায়ের মামলায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত সম্পন্ন করে লোকসভায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে যে বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা ধারা ১, ২ এবং ৩-এর তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে যে তিনটি অভিযোগ তদন্ত কমিটি দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে সেগুলো হলো: হিসাব বহির্ভূত নগদ টাকা, প্রমাণ সংরক্ষণে অবহেলা এবং এড়িয়ে যাওয়া মতো অসন্তোষজনক জবাব। হিসাব বহির্ভূত নগদ টাকার প্রথম অভিযোগটি হলো, নয়াদিল্লির ৩০, তুঘলক ক্রিসেন্টে অবস্থিত তাঁর সরকারি বাসভবনের স্টোরেজ রুম থেকে ৫০০ টাকার নোটে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা। কমিটির মতে, বিচারপতি ওই নগদ টাকার অস্তিত্ব, উৎস এবং মালিকানা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং, কমিটি এই অভিযোগটি প্রমাণ করেছে।
সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে অবহেলার দ্বিতীয় অভিযোগ
প্যানেল দেখতে পায় যে, মামলার সাথে সম্পর্কিত ভৌত সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত ছিল না। এটি প্রকাশ পায় যে, আইনগতভাবে সিলগালা ও পরিদর্শনের আগেই স্টোররুমের অবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিছু টাকার নোটের পরবর্তীকালে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বা পুনরায় আবির্ভূত হওয়ারও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। প্যানেল এটিকে গুরুতর অবহেলা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে বিচারক ব্যক্তিগতভাবে নোটগুলো সরিয়ে নিয়েছিলেন।
দায়িত্ব এড়ানো এবং অসন্তোষজনক উত্তরের তৃতীয় অভিযোগ
কমিটি বিচারকের ব্যাখ্যাসমূহ, বিশেষ করে তাঁর ২২শে মার্চ, ২০২৫ তারিখের ব্যাখ্যাকে অসন্তোষজনক বলে মনে করেছে। কমিটির মতে, তাঁর কর্মপন্থা ছিল দায়িত্ব এড়ানোর এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও প্রত্যাশিত স্বচ্ছতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বাধীন সরকারি সাক্ষী এবং উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে এই অভিযোগটিও প্রমাণিত হয়েছে।
কমিটির চূড়ান্ত পদক্ষেপ
তদন্ত কমিটি কার্যবিবরণী, প্রাসঙ্গিক নথি ও প্রমাণসহ তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।।
