এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,২৩ জুলাই : গত ১৭ই জুলাই ২০২৬ তারিখে মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর রেলগেটে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় একটি স্কুল পুলকার দুমড়েমুচড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে । দুর্ঘটনার পরপরেই গেটম্যানকে কর্তব্যে গাফেলতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এখনো কয়েকজন শিশু মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । আজ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চিকিৎসাধীন শিশুদের খোঁজ নিতে যান । পাশাপাশি তিনি হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন । সেই সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও করতে গেলে শুভেন্দু তাদের নিষেধ করে বলেন,’আমি এখানে ছবি তুলতে আসিনি । সব জায়গায় ছবি তোলা যায়না ।’
যদিও হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহুর্তের কিছু ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, ‘গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর রেলগেটে গেটম্যানের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে একটি স্কুল পুলকার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্কুলপড়ুয়া শিশু-সহ মোট পাঁচজনের অকাল মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক আহতরা বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং এই কঠিন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বতোভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিই। স্বজন হারানোর এই অপূরণীয় শোকের মুহূর্তে তাঁদের কষ্টের ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও লিখেছেন,’পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিই এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলি। নিহত ও আহতদের পরিবারের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছি।’
প্রসঙ্গত,গত ১৭ই জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ- গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে, ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটে । লেভেল ক্রসিংয়ে ওপরে পুলকারে ট্রেনের ধাক্কায় ৪ জন স্কুলপড়ুয়া ও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয় । অভিযোগ,ট্রেন যাওয়ার পর লেভেল ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় স্কুলগাড়িটি রেললাইন পার হতে গেলে উল্টোদিক থেকে দ্রুতগতিতে আরেকটি ট্রেন এসে ধাক্কা মারলে হতাহতের ঘটনা ঘটে । রেলের পক্ষ থেকে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয় । পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফেও মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আজ গোবিন্দপুরে গিয়ে হতাহতদের হাতে রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী ।।
