এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৩ জুলাই : ছাত্রদের নামে শুরু হওয়া ককরোভ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায়, কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) অধীনে আটক করার ক্ষমতা দিয়েছে। দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২শে জুলাই (বুধবার) দিল্লি গেজেট (এক্সট্রাঅর্ডিনারি) এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করেছে। তবে, সরকারি বিজ্ঞপ্তিটির তারিখ ছিল ১৫ই জুলাই। অনুরাগ কুমার সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ১২ দিন থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হিংসা ছড়ানো লোকজনকে আটক রাখা যায়। নতুন আদেশ অনুযায়ী, এই প্রতিরোধমূলক আটক ক্ষমতা ১৯শে জুলাই থেকে ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসের জন্য প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিশ্চিত যে জননিরাপত্তার স্বার্থে আটক ক্ষমতা হস্তান্তর করা প্রয়োজন।এতে বলা হয়েছে,“এনএসএ-এর ৩(৩) এবং ২(ই) ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, দিল্লির এল-জি নির্দেশ দিয়েছেন যে নির্দিষ্ট সময়কালে, দিল্লির পুলিশ কমিশনার এই আইনের ৩(২) ধারার অধীনে আটককারী কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন ।”
এনএসএ অনুসারে, এই ক্ষমতা অর্পণ পুলিশ কমিশনারকে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আটকাদেশ জারি করার কর্তৃত্ব প্রদান করে, যাদের কার্যকলাপ জনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা বা প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও পরিষেবা বজায় রাখার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়। জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ প্রধানদের আটককারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ করতে পারে।
গত বছর ২৬শে সেপ্টেম্বর লেহ-এর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি নির্দেশ জারি করেন, যার ফলে সোনম ওয়াংচুকের ধর্মঘট চলাকালে এলাকায় মারাত্মক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে তাকে এনএসএ-এর বিধানের অধীনে আটক করা হয়। তাকে ১৭০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল।
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির অজুহাতে যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে, এমনকি পুলিশের ওপরও পাথর ও বোতল ছোড়া হয়েছে। এর আগে, বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সিজেপি সদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে জাতীয় রাজধানীতে সংঘর্ষ ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, কেন্দ্র ভুলগুলোকে লঘু করে দেখায়নি বা দায় এড়ানোর চেষ্টাও করেনি এবং তাদের “রাজনৈতিক” দাবি মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “একটি সমস্যা ছিল। আমরা এ কথা প্রকাশ্যে বলেছি এবং প্রকাশ্যে দায়ও নিয়েছি। সরকার এ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না।”আরেকজন কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন,“আমরা বলছি না যে মানুষ প্রতিবাদ করবে না। গণতন্ত্রে মানুষের প্রতিবাদ করার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু কারা বিষয়টি উত্থাপন করছে, কীভাবে তা করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, সেগুলো ভিন্ন প্রশ্ন। আমরা কি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করব?” । তিনি আরও বলেছেন,“যাদের আমরা বিশ্বাস করতাম, তারাই এই ব্যবস্থার সাথে আপোস করেছে। আমরা কোনো কাগুজে মাফিয়া নই। ব্যবস্থার ভেতরের লোকেরাই আমাদের হতাশ করেছে; আমরা তাদের বিশ্বাস করেছিলাম। আমরা এই তথ্য ফাঁসের বিষয়টি গোপন করিনি। আমরা দায় স্বীকার করেছি এবং তা সমাধানের চেষ্টা করেছি ।”
বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ একটি আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ জারি করে সেইসব প্রতিবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছিল যে জাতীয় রাজধানীতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ মোকাবেলার জন্য পুলিশ কমিশনারকে ১৯৮০ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এর অধীনে প্রতিরোধমূলক আটকের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে এটি একটি নিয়মিত আদেশ যা প্রতি তিন মাস অন্তর নবায়ন করা হয় এবং চলমান সিজেপি বিক্ষোভের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।।
