এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৮ মে : মাংসের ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদের জেরে ঈদের নামাজ মাথায় তুলে তুমুল সংঘর্ষে জড়াল বাংলাদেশের ফরিদপুরের একটি এলাকার লোকজন । দু’পক্ষ ধারাল অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে । সেই সাথে চলে এলোপাথাড়ি পাথরবাজি৷ অন্যের হামলা থেকে বাঁচতে গামলা,হাঁড়ি, ঝুড়ি ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে দেখা যায় । এই ঘটনায় গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহেরা নেয় । সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে । সংঘর্ষ চলাকালে চার-পাঁচটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে খবর । আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশের অনলাইন পোর্টাল ডিআরবি নিউজ জানিয়েছে,পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর— দুই ভাগে বিভক্ত। মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। সেখানে কোরবানির তিনটি ভাগের যে অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করা হয়, সেই অংশ গ্রামের সব মাংস এক জায়গায় করে বিতরণ করা হয়ে থাকে । এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, এ নিয়ে ঈদের নামাজের শুরুতেই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,এ নিয়ে গ্রামের ‘মোল্লা পক্ষ’ ও ‘মাতুব্বর পক্ষ’-এর মধ্যে কথা-কাটাকাটি চরম উত্তেজনায় পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে রামদা, ছ্যানদা, ঢাল-সরকি ও ইট- পাটকেলসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত ২৮ জন আহত হন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । অনেকে ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মজিবর মোল্লা বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈদের আনন্দের দিনে সামান্য মাংস বণ্টনের বিষয় নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাছাড়া ঈদের নামাজ বা পশু জবাইও তখন হয়নি। তার আগেই মাংস বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে দুই দল সংঘর্ষে জড়ায়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।।
