এইদিন ওয়েবডেস্ক,মহারাষ্ট্র,১৪ জুলাই : কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়কারির ইথানল নীতি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নাগপুর সাইবার পুলিশ জনপ্রিয় বিহারী ইউটিউবার মনীশ কাশ্যপ সহ চারজন ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের তালিকায় রয়েছেন মনীশ কাশ্যপ, দেশি বয়েজ, হর্ষিত রাঠি এবং অঙ্কলেশ ইনভেট।
নাগপুর বিজেপি আইটি সেলের সভাপতি শিশির ত্রিপাঠীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, “এই ইনফ্লুয়েন্সাররা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুরনো বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকার সম্পাদনা করে ভিডিওতে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যা সরকারের ইথানল নীতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং নিতিন গড়কারির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।”
অভিযোগটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে নাগপুর সাইবার পুলিশ প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেছেন, “ভিডিওটি পোস্ট করার উদ্দেশ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উপর এর প্রভাব নিয়ে সাইবার সেল টিম পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
কিছুদিন আগে মনীশ কাশ্যপ অভিযোগ করেছিলেন যে ই২০ জ্বালানির কারণে তাঁর নতুন টয়োটা গাড়িটি বিকল হয়ে গেছে। তবে, তদন্তের পর টয়োটা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মনীশের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর, টয়োটা কির্লোস্কর মোটর জানিয়েছে যে, আলোচ্য টয়োটা ইনোভা হাইক্রস গাড়িটি ই২০ পেট্রোল উপযোগী হিসেবে সম্পূর্ণরূপে ডিজাইন, পরীক্ষা এবং সনদপ্রাপ্ত। কোম্পানির সার্ভিস বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত একটি বিশদ প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, গাড়িটির কোনো যন্ত্রাংশ বা ফুয়েল সিস্টেমের কোনো ক্ষতি হয়নি।
মনীশের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর, টয়োটা কির্লোস্কর মোটর জানিয়েছে যে, প্রশ্নবিদ্ধ টয়োটা ইনোভা হাইক্রস গাড়িটি ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের উপযোগী করেই সম্পূর্ণরূপে ডিজাইন, পরীক্ষা এবং সনদপ্রাপ্ত ছিল। কোম্পানির সার্ভিস বিশেষজ্ঞদের দ্বারা করা একটি বিশদ প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, গাড়িটির কোনো যন্ত্রাংশ বা ফুয়েল সিস্টেমের কোনো ক্ষতি হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনীশ কাশ্যপের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই বিতর্ক শুরু হয়।ভিডিওটিতে তিনি দাবি করেন যে, তার নতুন টয়োটা ইনোভা হাইক্রস গাড়িটি, যার ফুয়েল ক্যাপে স্পষ্টভাবে ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের উপযোগিতার কথা উল্লেখ ছিল, প্রায় ১২,০০০ কিলোমিটার চালানোর পর সেটির ইঞ্জিনে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।তিনি অভিযোগ করেছেন যে ই২০ পেট্রোল ব্যবহার করার পর গাড়িটিতে কম্পন, ঠকঠক শব্দ এবং যান্ত্রিক ত্রুটির মতো লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। ভিডিওতে তিনি ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং ফুয়েল লাইন থেকে নেওয়া জ্বালানির নমুনাও দেখান, যেগুলোতে তার মতে, ময়লা, আবর্জনা এবং অস্বাভাবিক পরিমাণে ইথানল ছিল।
কাশ্যপ পেট্রোল পাম্পে উপলব্ধ জ্বালানির মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই জ্বালানির কারণে গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটলে তার জন্য কে দায়ী থাকবে: পেট্রোল পাম্প, শোধনাগার, গাড়ি নির্মাতা, নাকি নীতি নির্ধারকরা।তিনি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়কারিরও সমালোচনা করে বলেন যে, গ্রাহকদের শুধু ই২০ মিশ্রিত পেট্রোল নয়, সাধারণ পেট্রোল কেনারও সুযোগ থাকা উচিত।
মনীশ কাশ্যপের এই ভিডিওটির ভিত্তিতেই নাগপুরে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে, নাগপুর পুলিশ বিএনএস-এর ৩৫২, ৩৫৬, ২৯৬ ধারা এবং আইটি আইনের ৬৭ ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।।
