এইদিন ওয়েবডেস্ক,আউশগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),১৪ জুলাই : সপ্তাহ খানেক আগে ধান বিক্রি করেছিল একটি পরিবার । সেই টাকার উপর নজর পড়েছিল দুষ্কৃতীদের । তারপর সোমবার গভীর রাতে বাড়িতে হানা দেয় ২ মুখোশধারী চোর । খুটখাট আওয়াজ শুনে জেগে যান বাড়ির কর্তা৷ দুষ্কৃতীরা তার গলায় ধারাল অস্ত্র ধরে লুটপাটের চেষ্টা করে । কিন্তু গৃহকর্তার উপস্থিত বুদ্ধির জোরে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয় । সোমবার রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে আউশগ্রামের পিচকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের বাড়িতে । পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দুস্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ।
জানা গেছে,আউশগ্রামের উক্তা পিচকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক হিসাবে কর্মরত ফজলুর রহমান । বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা মা। মা জায়েদা মল্লিক অসুস্থ । তাদের মূল বাড়ি দোতলা বিশিষ্ট । পাশেই একটি ঘর বানিয়ে পরিবার নিয়ে পৃথকভাবে থাকেন ফজলুর রহমান । তবে মায়ের অসুস্থতার কারনে মূল বাড়িতেই কয়েকদিন ধরে রাত্রিবাস করছেন তিনি । একটি ঘরে বাবা মা এবং ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও এক ভাইঝি ছিলেন। ফজলুর রহমান রাতে নিজের ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। বাড়ির গ্রিলের তালার চাবি ঝোলানো ছিল বারান্দার দেওয়ালের একটি পেরেকের সাথে ।
ফজলুর রহমানের কথায়, গভীর রাতে খুটখাট আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায় । ঘরের দরজা খোলাই ছিল । দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি । দেখি মুখ ঢাকা দুই দুস্কৃতী পাচিল টপকে বাড়িতে ঢুকে গ্রিল গেটের তালার চাবি একটি কঞ্চি দিয়ে বের করে করে তালা খুলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েছে । একটি ঘরের আলমারি ও একটি কাঠের বাক্সের তালা ভেঙে জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা । আমি ঘরে ঢুকতেই তারা আমার গলায় একটা কাটারি ধরে প্রাণে মারার হুমকি দেয় ।
জানা গেছে,এদিকে আলমারি ও কাঠের বাক্সে টাকা না পেয়ে অন্য ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে । আর সেই সুযোগে ফজলুর রহমান একই পাড়ার বাসিন্দা তার ভাইকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানা । এরপর ফজলুরের ভাই লোকজন নিয়ে ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয় । ফজলুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহ খানেক আগে ধান বিক্রি করেছিলাম । সেই টাকার সন্ধানেই দুষ্কৃতীরা হানা দিয়েছিল বলে মনে হয় ।’ এই ঘটনায় পরিচিতরা জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনার আশঙ্কা করেছেন তিনি । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।।
