এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ জুন : অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ধরে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে আনা হচ্ছে । পরে তাদের বাংলাদেশে “পুশ ব্যাক” করে দিচ্ছে বিএসএফ । কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিজিবি কিছুতেই নিজের দেশের নাগরিকদের নিতে চাইছে না । ফলে জিরো পয়েন্টে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হচ্ছে তাদের । আর তাদের এই দশা দেখে তথাকথিত মানবাতাবাদী দল সিপিএমের নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের হৃদয় বিগলিত হয়ে গেছে । তিনি বিজেপি ও আরএসএস-এর ‘অমানবিকতার’ সমালোচনা করে ‘বুদ্ধ,রবীন্দ্রনাথ, গান্ধী’কে স্মরণ করে বলেছেন : “সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই ।” আর এই মানবতার বাণী শুনে যেকারণে এখন নেটিজেনরা সিপিএমের ওই বরিষ্ঠ নেতাকে রীতিমতো ট্রোল করতে শুরু করে দিয়েছে ।
জিরো পয়েন্টে অপেক্ষামান কয়েকজন শিশু ও মহিলার একটা ছবি পোস্ট করে সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য লিখেছেন,”কোনটা বেশি মূল্যবান, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের খেয়ালখুশী না মানুষের জীবন ও মানবিকতা? আমরা খুব গর্ব করি— মেরা ভারত মহান। প্রাচীন সভ্যতার আলোকে আলোকিত মহান বুদ্ধ , রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীর দেশ। যদিও আর এস এস প্রাণিত মোদী-অমিত সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অনুপ্রবেশকারী বাহানায় নিরীহ অসহায় নারী শিশুদের খোলা আকাশের নীচে ফেলে রেখেছে সীমান্ত প্রান্তে। বাংলাদেশের সরকার তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। ভারত সরকার তাদের দাবির সারবত্তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ। দুই দেশের টানাপোড়েনের মাঝে নির্মমতার শিকার মানব সন্তান॥ “সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই “। ভারতের এই চিরন্তন আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাই।”
তার এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় একজন লিখেছেন, ‘বেশি মানবিকতা মারিয়েন না। মানবিকতা দেখাতে হলে দেশের মানুষের প্রতি দেখান।’
একজন মরিচঝাঁপিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হিন্দু নরসংহারের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছেন,’১৯৭৯ সালের মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন সিপিআই(এম) (CPI(M)) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে বাস্তুচ্যুত নিম্নবর্ণের হিন্দু (নমঃশূদ্র) শরণার্থীদের ওপর এক মর্মান্তিক উচ্ছেদ অভিযান ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ও শোকাবহ অধ্যায়।
পটভূমি:দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশার রুক্ষ দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার মানবেতর পরিবেশ ও প্রতিকূল জীবনযাপনের কারণে ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি উদ্বাস্তু বাংলায় ফিরে আসেন এবং সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল মরিচঝাঁপিতে বসতি গড়েন।উচ্ছেদ ও অবরোধ:বামফ্রন্ট সরকার এই শরণার্থীদের সেখানে থাকতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাঁদের ‘বেআইনি দখলদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। দ্বীপটি খালি করার জন্য সরকার সেখানে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করে, খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপর পুলিশ দ্বীপটি ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।’
আর একজন লিখেছেন, ‘ওপার বাংলায় খেয়ে লাথ এপার বাংলায় সাম্যবাদ! সালাম নেবেন প্রনাম বাদ! বিকাশ নেবেন গরুর স্বাদ,সেলিমের বেলায় শুয়োর বাদ! এরই নাম মার্ক্সবাদ !’ কেউ কেউ বিকাশকে অনুপ্রবেশকারীদের নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ।।
