এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১৫ জুন : কর্নাটকের একটি হিন্দু তীর্থস্থানের মানহানির ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তামিল অভিনেতা প্রকাশ রাজের নাম সামনে এসেছে । বিভিন্ন সময় হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তি করা কথিত ধর্মনিরপেক্ষ ওই খ্রিস্টান অভিনেতা এবারে বামপন্থী মদতপুষ্ঠ বিতর্কিত ‘আরশোলা জনতা পার্টি’র দলে ভিড়েছেন । নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত অনিয়মের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার বেঙ্গালুরুতে প্রথম বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বিক্ষোভটি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিক্ষোভে ভাষণ দিতে গিয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভিন্নমত দমনের জন্য তা ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন।প্রবল ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন এবং নিট (NEET) পরীক্ষা পরিচালনায় কথিত ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
বিতর্কিত অভিনেতা প্রকাশ রাজ, জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং আরও অনেক কথিত সমাজকর্মী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। মঞ্চে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিল ।
নিট পরীক্ষা বিতর্ককে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দীপকে বলেন, “এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে অন্যদের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন দেখা তরুণদের নিজেদের জীবন হারাতে হচ্ছে। দেশের জন্য এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কিছু হতে পারে না।” তিনি অভিযোগ করেন,”সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করলে আপনাকে দেশদ্রোহী বা পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে ‘ডিপ স্টেটের পাকিস্তানি এজেন্ট’ বলা হয়েছে ।”
এদিকে, দীপকে তার মায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার মা আমাকে ভারতে ফিরতে বারণ করেছেন, বলেছেন গ্রেপ্তার হতে পারেন। আর কতদিন সরকারের ভয়ে আমাদের বাঁচতে হবে? যদি জেলে যেতে হয়, আমরা যাব। আমি আগে জেলে যাব। আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়ব।”
পরে, ভাষণ দিতে গিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমার তরুণ আরশোলাগুলো, তোমরা তোমাদের আওয়াজ তুলতে থাকো। যারা অবসরের বয়স পার করেছে, তারাই দেশ লুট করছে। তাদের কাজের জন্য কোনো দায়িত্ব বা জবাবদিহিতা নেই।” তিনি নিট (NEET) বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, “জনগণের শক্তি তাদের কণ্ঠেই নিহিত। ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, আমাদের সরকারকে প্রশ্ন করতে থাকা উচিত। আমরা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করতে এসেছি। কিন্তু আমাদের দেশের প্রায় সব ব্যবস্থা, বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, পচে গেছে। ভারত আর গণতান্ত্রিক দেশ নয়। এটি একটি স্বৈরাচারী দেশে পরিণত হয়েছে।”
প্রসঙ্গত,কর্নাটকের একটি হিন্দু তীর্থস্থানের মানহানির ঘটনায় অভিনেতা প্রকাশ রাজের নাম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সামনে আসায় বিতর্কটি আবারও তীব্র হয়েছে। কর্নাটক হাইকোর্টে দায়ের করা এক আবেদনে, প্রধান অভিযোগকারী এবং প্রাক্তন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সি.এন. চিন্নাইয়া দাবি করেছেন যে, সমাজকর্মী গিরিশ মত্তান্নাভার অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ফোন আলাপের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং রাজ তাঁকে ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন।চিন্নাইয়ার মতে, প্রকাশ রাজ তাঁকে কর্তৃপক্ষকে কেবল ততটুকুই বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যতটুকু তাঁকে আগে থেকে বলা হয়েছে। এই দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন একই মামলার তদন্তের পর বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন অভিযোগকারী ও সাক্ষীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছে।
চিন্নাইয়া তাঁর আবেদনে আরও অভিযোগ করেছেন যে, তীর্থস্থান এবং ধর্মাধিকারী (পুরোহিত) বীরেন্দ্র হেগড়েকে লক্ষ্য করে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং সেই তদন্ত এখনও চলছে। চিন্নাইয়া আবেদনে দাবি করেছেন যে, সমাজকর্মী মহেশ শেঠি তিমরোদি তাঁকে জানিয়েছিলেন যে পুরো প্রকল্পটির বাজেট ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তিনি অভিযোগ করেন যে, ধর্মস্থলের ধর্মাধিকারী বীরেন্দ্র হেগড়েকে জেলে পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।অর্থায়ন করেছিল কেরালার সিপিএম সরকার। পুরো ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার মধ্যভাগে ছিলেন বিতর্কিত অভিনেতা প্রকাশ রাজ ।।
