এইদিন ওয়েবডেস্ক,জম্মু-কাশ্মীর,০১ আগস্ট : জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছত্তিশগড়ের এক শ্রমিকের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, গুলি চালানোর আগে সন্ত্রাসীরা নিহত ব্যক্তির ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞাসা করেছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কেলাম এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যে একজন ছিলেন ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলার বাসিন্দা দীপক রাত্রে (২৪)। দ্বিতীয় নিহত ভূপেন্দ্র ভৈনা (২৮)-ও ছত্তিশগড়েরই বাসিন্দা।খবরে বলা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)-র প্রক্সি ও পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী সংগঠন টিআরএফ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
দীপকের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, হামলাকারীরা গুলি চালানোর আগে ভুক্তভোগীদের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। হামলা তদন্তকারী নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।দীপকের ভাই মনোজ বলেন,’তারা জিজ্ঞেস করেছিল সে কোথা থেকে এসেছে এবং তার ধর্ম কী। সে হিন্দু বলার পর তাকে গুলি করা হয় ।’
দীপক প্রায় সাত-আট মাস আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো মজুরির জন্য একটি ইটভাটায় কাজ করতে জম্মু ও কাশ্মীরে গিয়েছিল। সে-ই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী; তার পরিবারে ছিল বৃদ্ধা মা, এক প্রতিবন্ধী ছোট ভাই, স্ত্রী এবং ছেলে। তার বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীপক তার প্রিয়জনদের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আশায় বাড়ি ছেড়েছিলেন, কিন্তু পরিবর্তে তিনি সন্ত্রাসবাদের সর্বশেষ শিকার হয়েছেন। তার আত্মীয়রা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন, কারণ তাদের পরিবার এখন আয়ের কোনো উৎস ছাড়াই রয়েছে।
ভূপেন্দ্র প্রায় তিন মাস আগে তাঁর চার বছরের ছেলেকে দিদিমা ও ছোট বোনের কাছে রেখে স্ত্রীর সঙ্গে কাজের জন্য কাশ্মীর গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা- মা ও ভাই হিমাচল প্রদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।ঘটনার পর মালখারৌদার এসডিএম রূপেন্দ্র প্যাটেলসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁদের সব ধরনের সম্ভাব্য সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। দীপকের মৃতদেহ তার নিজ গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসন জম্মু ও কাশ্মীর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এই হামলাকে “কাপুরুষোচিত” এবং “মানবতা ও জাতীয় ঐক্যের উপর আক্রমণ” আখ্যা দিয়ে বিষ্ণু দেব সাই বলেছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে এবং নিহতদের শেষকৃত্য যেন মর্যাদার সঙ্গে ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে জম্মু ও কাশ্মীরে রাজ্য সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে।
পরিবারটির এই অভিযোগ ২২শে এপ্রিলের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেছিলেন যে সন্ত্রাসীরা গুলি চালানোর আগে পর্যটকদের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল।
অনন্তনাগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ১০ দিন পর কুলগামে এই হামলাটি ঘটে। জম্মু ও কাশ্মীরে অমুসলিম শ্রমিকদের লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এটি ছিল সর্বশেষ ঘটনা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরে একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় পাঞ্জাবের দুই কর্মী নিহত হয়েছিলেন।।
