অষ্টবক্র গীতার ১৯তম অধ্যায়টি রাজা জনকের আত্ম-উপলব্ধি এবং পরম শান্তির বর্ণনা, যেখানে তিনি নিজের স্বরূপ বা ‘আত্মা’তে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেহ ও জগৎবোধ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলেছেন । এই অধ্যায়ে জনক নিজেকে জন্ম-মৃত্যু, ভূত-ভবিষ্যৎ- বর্তমান, এমনকি সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে বলে অনুভব করেন৷
জনক উবাচ ॥
তত্ত্ববিজ্ঞানসংদংশমাদায় হৃদয়োদরাত্ ।
নানাবিধপরামর্শশল্যোদ্ধারঃ কৃতো ময়া ॥১৯-১॥
ক্ব ধর্মঃ ক্ব চ বা কামঃ ক্ব চার্থঃ ক্ব বিবেকিতা ।
ক্ব দ্বৈতং ক্ব চ বাঽদ্বৈতং স্বমহিম্নি স্থিতস্য মে ॥১৯-২॥
ক্ব ভূতং ক্ব ভবিষ্যদ্ বা বর্তমানমপি ক্ব বা ।
ক্ব দেশঃ ক্ব চ বা নিত্যং স্বমহিম্নি স্থিতস্য মে ॥১৯-৩॥
ক্ব চাত্মা ক্ব চ বানাত্মা ক্ব শুভং ক্বাশুভং যথা ।
ক্ব চিন্তা ক্ব চ বাচিংতা স্বমহিম্নি স্থিতস্য মে ॥১৯-৪॥
ক্ব স্বপ্নঃ ক্ব সুষুপ্তির্বা ক্ব চ জাগরণং তথা ।
ক্ব তুরীয়ং ভয়ং বাপি স্বমহিম্নি স্থিতস্য মে ॥১৯-৫॥
ক্ব দূরং ক্ব সমীপং বা বাহ্যং ক্বাভ্যংতরং ক্ব বা ।
ক্ব স্থূলং ক্ব চ বা সূক্ষ্মং স্বমহিম্নি স্থিতস্য মে ॥১৯-৬॥
ক্ব মৃত্য়ুর্জীবিতং বা ক্ব লোকাঃ ক্বাস্য ক্ব লৌকিকম্ ।
ক্ব লয়ঃ ক্ব সমাধির্বা স্বমহিম্নি স্থিতস্য মে ॥১৯-৭॥
অলং ত্রিবর্গকথয়া যোগস্য কথয়াপ্যলম্ ।
অলং বিজ্ঞানকথয়া বিশ্রাংতস্য মমাত্মনি ॥১৯-৮॥
অষ্টবক্র গীতার ১৯তম অধ্যায়ের মূল কথা:
নিজের মধ্যে বিশ্রাম: জনক বলছেন, “আমি আমার নিজের মহিমায় অবস্থিত” (স্বমহিম্নি স্থিতস্য়মে) ।
দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তি: ধর্ম-অধর্ম, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, এমনকি দ্বৈত-অদ্বৈতের ঊর্ধ্বে অবস্থান ।
জগতের মিথ্যাত্ব: স্বপ্ন, সুষুপ্তি (গভীর ঘুম) এবং জাগরণ—এগুলোর কোনটিই আত্মার ওপর প্রভাব ফেলে না ।
ভয় ও কামনা ত্যাগ: যোগ বা সাধনার মাধ্যমে পরম জ্ঞান পাওয়ার পর তিনি সমস্ত কামনা ও যোগের কথা থেকে মুক্ত ।
এই অধ্যায়টি মূলত একজন জীবন্মুক্ত পুরুষের অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরে, যিনি দেহাভিমান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে নিজের আত্মাতে স্থিতি লাভ করেছেন।।
