শুধুমাত্র কাঁচা ফল খেয়ে বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করা পোলিশ ইনফ্লুয়েন্সার ও নৃত্যশিল্পী ক্যারোলিনা ক্রাইজাক (২৭)-কে মর্মান্তিক পরিনতির মুখে পড়তে হয়েছে । তার এই প্রকার সিদ্ধান্তের ফলে কঙ্কালসার দেহ হয়ে যায় । একজন প্রায় ৬ ফুট দীর্ঘ এই তরুনীর ওজন গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র ২২ কেজিতে । সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে একটি রিসোর্ট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে । প্রতিবেদন অনুসারে, তার মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে হোটেলের কর্মীরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসার প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
মূলত পোল্যান্ডের নাগরিক ক্যারোলিনা ক্রাইজাক (২৭) ২০২৪ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বসবাস করছিলেন । পেশায় ইনফ্লুয়েন্সার ও নৃত্যশিল্পী ক্যারোলিনা শুধুমাত্র কাঁচা ফল খেয়ে বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন । শুরুতে তিনি সম্পূর্ণ ভেগান জীবনধারা পালন করতেন । উল্লেখ্য,ভেগান ভেগানিজম হলো এমন একটি জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস, যেখানে কোনো ধরনের প্রাণীজ পণ্য বা উপজাত (মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, মধু) গ্রহণ করা হয় না। এই জীবনধারায় শুধুমাত্র খাবার নয়, বরং চামড়া, পশম বা প্রাণীর ওপর পরীক্ষিত কসমেটিকসও বর্জন করা হয় । এটি নৈতিক, স্বাস্থ্যগত বা পরিবেশগত কারণে প্রাণী শোষণ রোধে একটি উদ্ভিদ-ভিত্তিক (Plant-based) জীবনযাপন।
কিন্তু পরে তিনি শুধুমাত্র ফল খাওয়ার উপর ভিত্তি করে একটি অত্যন্ত কঠোর খাদ্যতালিকা গ্রহণ করেছিলেন । ক্যারোলিনা পরবর্তীতে একটি চরম ফলভোজী খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হন, যেখানে তিনি তার খাদ্যতালিকা থেকে প্রোটিন, ফ্যাট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সম্পূর্ণরূপে বাদ দেন। এই ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে তিনি মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগতে শুরু করেন। যেকারণে মৃত্যুর সময় তার ওজন ছিল প্রায় ২২ কেজি।
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে একটি রিসোর্টে থাকাকালীন, তার পছন্দের একজন ফলভোজী ইনফ্লুয়েন্সারের সাথে দেখা করার জন্য তিনি অনুরোধ করেছিলেন । রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন “রুমে শুধু ফল পৌঁছে দেওয়া হয়।” জানা যায় যে, ওই ইনফ্লুয়েন্সার রুমে ঢোকার পর দেখেন বিছানায় নিজে থেকে পাশ ফেরার মতো শক্তিও পর্যন্ত তার ছিল না ক্যারোলিনা এবং তিনি একজন কর্মীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।অবশেষে, চেক-ইন করার তৃতীয় দিনে ঘরের মেঝেতে তার শীর্ণকায় লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায় যায়।
জানা যায়,ক্যারোলিনা ক্রাইজাকের মধ্যে তীব্র পুষ্টিহীনতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছিল, যেমন তার নখগুলো হলুদ ও ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছিল এবং তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়ছিল। তা সত্ত্বেও, অনলাইন অনুসারীরা তার ছবিগুলোর প্রশংসা করে বলেছেন যে তিনি ‘উজ্জ্বল’ এবং ‘আধ্যাত্মিকভাবে মহৎ’। গ্যাব্রিয়েল ফেরেইরা নামে এক ইনফ্লুয়েন্সার বলেছেন,এই ঘটনাটি “আধ্যাত্মিক সুস্থতা” কতটা ভিত্তিহীন এবং মারাত্মক একটি বিভ্রম, তা দেখানোর একটি প্রধান উদাহরণ হয়ে উঠেছে ।।
