অষ্টবক্র গীতার চতুর্দশ অধ্যায়টি অত্যন্ত গভীর এবং আত্ম-উপলব্ধির একটি বিশেষ স্তর বর্ণনা করে। এখানে রাজা জনক তাঁর পরম জ্ঞানের অবস্থা এবং বাসনাশূন্যতার বর্ণনা দিয়েছেন ।
জনক উবাচ ॥
প্রকৃত্যা শূন্যচিত্তো যঃ প্রমাদাদ্ ভাবভাবনঃ ।
নিদ্রিতো বোধিত ইব ক্ষীণসংস্মরণো হি সঃ ॥১৪-১॥
ক্ব ধনানি ক্ব মিত্রাণি ক্ব মে বিষযদস্যবঃ ।
ক্ব শাস্ত্রং ক্ব চ বিজ্ঞানং যদা মে গলিতা স্পৃহা ॥১৪-২॥
বিজ্ঞাতে সাক্ষিপুরুষে পরমাত্মনি চেশ্বরে ।
নৈরাশ্য়ে বংধমোক্ষে চ ন চিংতা মুক্তয়ে মম ॥১৪-৩॥
অংতর্বিকল্পশূন্যস্য বহিঃ স্বচ্ছংদচারিণঃ ।
ভ্রাংতস্যেব দশাস্তাস্তাস্তাদৃশা এব জানতে ॥১৪-৪॥
অধ্যায় ১৪-এর মূল শিক্ষা ও সারাংশ :
নিষ্কাম ও বাসনাশূন্য অবস্থা: জনক বলছেন, যখন আমি আমার পরমাত্মা রূপকে জেনেছি এবং আমার সমস্ত কামনা-বাসনা দূর হয়ে গেছে, তখন আমার আর ধন, মিত্র, বিষয়-বাসনা, শাস্ত্র বা জ্ঞানের প্রতি কোনো আসক্তি নেই ।
বন্ধন ও মুক্তির চিন্তাহীনতা: যখন মানুষ নিজের স্বরূপ বা সাক্ষী পুরুষকে চিনে ফেলে, তখন মুক্ত হওয়ার জন্য আর কোনো চিন্তা বা প্রচেষ্টা থাকে না। আত্মজ্ঞানী পুরুষ বন্ধন ও মুক্তি—উভয়ের ঊর্ধ্বে চলে যান ।
অন্তরের শূন্যতা ও বাইরের স্বাধীনতা: যিনি অন্তরে কোনো বিকল্প (দ্বৈতবোধ বা কামনা) রাখেন না, তিনি বাইরে স্বাধীনভাবে বিচরণ করেন। এমন পুরুষ অনেকটা উন্মত্তের মতো মনে হলেও, তিনি পরম জ্ঞানী।
সংসার প্রপঞ্চের লয়: এই অবস্থায় সংসার, কর্ম এবং সংসারের সমস্ত বস্তু অর্থহীন মনে হয়, কারণ তখন সাধক কেবল নিজের আত্মস্বরূপেই স্থিত থাকেন ।
সংক্ষেপে, এই অধ্যায়টি অদ্বৈত উপলব্ধির এমন একটি অবস্থা বর্ণনা করে, যেখানে আত্মা সর্বব্যাপী সাক্ষী হিসেবে নিজেকে দর্শন করে এবং সংসার থেকে সম্পূর্ণরূপে উদাসীন হয়।।
