এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৫ জুন : ২০১৩ সালে, আইএসআই-এর নির্দেশে পাকিস্তানে বন্দী ভারতীয় নাগরিক সরবজিৎ সিংকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী আমির সরফরাজকে গুলি করে নিকেশ করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা । পাকিস্তানের লাহোরে অজ্ঞাত হামলাকারীরা ওই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় । ২১টি গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আমির সরফরাজ ।
প্রসঙ্গত,সরবজিৎ সিং ছিলেন পাঞ্জাবের একজন কৃষক । তার পরিবার দাবি করে যে, ১৯৯০ সালে তিনি ভুলবশত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসে সীমান্তের কাছে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের হাতে গ্রেপ্তার হন।প্রাথমিকভাবে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। পরে ভারতের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তি এবং লাহোর ও ফয়সালাবাদ বোমা বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে ।১৯৯১ সালে একটি পাকিস্তানি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরিবার দাবি করে যে তিনি নির্দোষ ছিলেন এবং তাকে অন্য একজন ভেবে ভুল করা হয়েছিল।
১৯৯১-২০১২ সালের মধ্যে একাধিকবার প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি আবেদনে ভারত থেকে এক লক্ষেরও বেশি স্বাক্ষর ছিল বলে জানা যায়। তবে কোনোটিই সফল হয়নি। ২০১২ সালের জুন মাসে মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। ততদিনে তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ২৬শে এপ্রিল লাহোরের কোট লাখপত জেলের ভেতরে আক্রান্ত হন সরবজিৎ সিং । মাফিয়া ডন আমির সরফরাজ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আইএসআই-এর নির্দেশে ইট, লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আক্রমণ করে সরবজিৎকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে ।মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি । ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২০১৩ সালের ২রা মে, তিনি মারা যান৷ পরে মৃতদেহ বিমানে করে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন সরবজিতের হত্যাকারী আমির সরফরাজ ওরফে “তাম্বা” লাহোরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিকেশ হয়েছে ।।
