এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৩ আগস্ট : হিন্দু থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার পর স্বামীর প্রথমপক্ষের বাড়ির লোকজনের দ্বারা নিদারুন অত্যাচারের শিকার হলেন বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের এক মহিলা । মহিলাকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে ৭ জন মহিলা মিলে বেদম পিটিয়ে মাথার চুল কেটে দেয় । এমনকি গোপনাঙ্গে লঙ্কার গুঁড়ো পর্যন্ত ছিটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ । প্রহৃত হয় তার স্বামীও । শেষে ঘরে থাকা সমস্ত মালপত্র ও টাকাপয়সা লুটপাট চালিয়ে ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দু’জনের স্বাক্ষর করে নিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা । কনিকা রায় থেকে সদ্য মোছা. কুলসুম বেগ হওয়া ওই মহিলা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেছেন,’আমার পাশে এখন কেউ নেই । ন্যায়বিচার পাবো কিনা আমি জানিনা৷’
চলতি বছরের ১২ জুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোছা. কুলসুম বেগ নামধারণ করেন দেবীগঞ্জ উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা কনিকা রায় । ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি মহম্মদ দারগালীকে বিয়ে করেন । গত ১০ আগস্ট রাতে মহম্মদ দারগালীর দুই যুবক ছেলে শেখ সামসের ও শেখ রানার নেতৃত্বে পরিবারে জনা পঞ্চাশ সদস্য ঘরে ঢুকে তাদের বেদম পেটাতে শুরু করে । মোছা. কুলসুম বেগের কথায়, ‘তাদের মধ্যে ৭ জন মহিলা আমাকে একটি বাড়িতে টেনে নিয়ে যায় । তারপর ঘরে ঢুকিয়ে আমায় মারধর করা হয় । আমার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং আমার গোপনাঙ্গে লঙ্কার গুড়ো মাখিয়ে দেওয়া হয় ।’ এনিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা দলে ভারী । আমি আদপেই ন্যায়বিচার পাবো কিনা জানিনা ।’
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাদের ঘর থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালপত্র, নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও ১১ মণ বাদাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে । পরে তাঁর কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এই ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা । আহত অবস্থায় তাঁকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের তরফে এখনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি । মহম্মদ দারগালীর কথায়,’আমি ওকে হিন্দু থেকে মুসলিম করে বিয়ে করেছি । তারপরেও এই ঘটনা ঘটানো হল।’।
