৩৪ বছরের বামপন্থী আর ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনকালে এরাজ্যের হিন্দুদের জোর করে ধর্মনিরপেক্ষতার ‘টনিক’ খাওয়ানোর জোরদার অপচেষ্টা চলেছে । কেরালেতেও সিপিএম আর কংগ্রেস যৌথভাবে একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু কেরালার হিন্দুরা বামপন্থী আর কংগ্রেসের এই ধর্মনিরপেক্ষতার ‘টনিক’ আত্মসাৎ করলেও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের ‘বিলম্বে বোধদয়’ হয়েছে । বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের তরুন প্রজন্ম আর এই ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতা স্বীকার করতে রাজি নয় । ফলশ্রুতিতে “বৃদ্ধ” বামপন্থী আর “তরুন” হিন্দুত্ববাদীদের আদর্শিক সংঘাত শুরু হয়েছে । আর এই সংঘাত শুরু হয়েছে হনুমান চালিশা নিয়ে সিপিআই (CPI)-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে ঘিরে ।
দিন দুয়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে সিপিআই-এর একটি ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ‘হনুমান চালিশা’ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন,”বামেরা হনুমান চালিশা পড়েনা…. হনুমান চালিশা পরে হনুমানরা… আমরা হনুমান না, হনুমানের দলও করি না ….. লেলিন, কার্ল মার্কস পড়ি আমরা…..! “
এই মন্তব্যের জেরে মেদিনীপুর শহরের কালেক্টর মোড় এলাকায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাম নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি ও তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তবে এখানেই ক্ষোভের আগুন প্রশমিত হয়নি । মঙ্গলবার মেদিনীপুর জেলা কমিউনিস্ট পার্টি অফিস এলাকায় লাউড স্পিকারে হনুমান চল্লিশা চালান তরুন তরুনীরা । বয়স্ক বামপন্থী নেতানেত্রীরা বাধা দিতে হলে তাদের বিভিন্ন রকম কটাক্ষ শুনতে হয় ।
একজন তরুনী বামপন্থী নেতানেত্রীদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘এরা কেউ হিন্দু নয় । এদের রক্তে দোষ আছে, মিশ্রিত রক্ত ।’ একজন যুবক এক বৃদ্ধ বাম নেতার দিকে আঙুল তুলে বলেন,’হনুমান চালিশা নিয়ে আপনারা কটুক্তি করতে পারেন। কিন্তু কই মুসলিমদের নিয়ে তো বলেন না । আপনারা হিন্দুদের কি ভেবেছেন ? আপনাদের জন্য হিন্দু মেয়েদের লাভ জিহাদের শিকার হতে হচ্ছে ।’ আর একজন বলেন,’আপনারা হিন্দুদের গরু কেটে খেতে বলেন । কিন্তু কখনো তো শুয়োর কেটে খেতে বলেন না !’ একজন বলেন,’পাকিস্থানে চলে যা ।’
যদিও বৃদ্ধ বামপন্থীদের কাউকেই শারিরীক ভাবে হেনস্থা করা হয়নি । প্রশ্নবাণ আর কটাক্ষে জর্জরিত বামপন্থীদের মাথা হেঁট করে চলে যেতে দেখা যায় । কিন্তু বাম দলের মধ্যে এক প্রৌঢ়াকে শাঁখা সিঁদূর পরে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে । অর্থাৎ তিনি হিন্দু সংস্কৃতিকে মেনে চলেন বলেই বিশ্বাস । কিন্তু হনুমান চল্লিশা নিয়ে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুমন্তব্যের পরেও তিনি কেন প্রতিবাদ করলেন না ? এই প্রশ্ন উঠছে ।
প্রসঙ্গত,অভিযোগ ওঠে যে বামপন্থীদের নীতিই হল সীমাহীন মুসলিম তোষণ । পহেলগাঁয়ে সন্ত্রাসীরা যখন বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করেছিল তখন কলকাতার বামপন্থীরা মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। কিন্তু ভারত পালটা ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে কলকাতার রাজপথে “যুদ্ধ নয় শান্তি চাই” বলে মিছিল করে তারা ।
শুধু মুসলিম তোষণই নয়, বামপন্থীদের হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু দেবদেবীদের বারবার কুমন্তব্য করতে দেখা গেছে । সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য নাম । কিন্তু তারা ঘুনাক্ষরেও মুসলিম ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন না । উলটে মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ থেকে হজরত মহম্মদের বৈবাহিক জীবন নিয়ে উদ্ধৃতি দিয়ে নূপুর শর্মা যখন খুনের হুমকির মুখে পড়েছিলেন তখন এই বামপন্থী বাস্তুতন্ত্র তার বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে আসরে নামে । এমনকি এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকাকেও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়েছিল।।

